নিজস্ব প্রতিবেদক
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২০ পিএম
প্রবাসে ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদানের কার্যক্রমে ১৪টি দেশের ৫৪ হাজার ৪৭৭ জন জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পেয়েছেন। এরমধ্যে ২৮ হাজারের বেশি এনআইডির স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইসির এনআইডি অনুবিভাগের কর্মকর্তারা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এনআইডি শাখার আগস্ট মাসে সর্বশেষ তৈরি করা প্রতিবেদন জানা যায়, রেজিস্ট্রেশন অফিসারের তদন্ত সম্পন্ন হয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ৩ হাজার ৫৩৬টি আবেদন। অন্যদিকে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে ৫৪ হাজার ৪৭৭টি এনআইডি অনুমোদন হয়েছে তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর বাতিল হয়েছে ২৬ হাজার ৫৯৫টি আবেদন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রমে পাওয়া ৯৯ হাজার ৮১৫টি আবেদন হয়েছে। এরমধ্যে ৬২ হাজার ৫৮৯টির বায়োমেট্রিক গ্রহণ করা হয়েছে। ৩৭ হাজারের বেশি আবেদনের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক গ্রহণ বাকি রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে থেকে। দেশটির আবুধাবি ও দুবাই স্টেশনে মোট ২৪ হাজার ৮২৫টি আবেদন জমা পড়েছে।
যুক্তরাজ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আবেদন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম স্টেশনে মোট ১৮ হাজার ৬২১টি আবেদন পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রেও ১৮ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিশিগান, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেশনে ১৮ হাজার ৪৭২টি আবেদন পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইতালিতে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার আবেদন, সৌদি আরবে প্রায় ৭ হাজার আবেদন, কুয়েতে আবেদন জমা পড়েছে ৫ হাজার ৯২১টি। কাতারের আবেদন পড়েছে ৪ হাজার ৮২৯টি।
মালয়েশিয়া থেকে ২ হাজারের বেশি প্রবাসী আবেদন করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি স্টেশনে ১ হাজার ৪৫৯টি আবেদন পাওয়া গেছে। কানাডার অটোয়া ও টরন্টো স্টেশনে ৩ হাজার ৭৯৪টি আবেদন এসেছে। জাপানের টোকিও স্টেশনে ৩৬৫টি আবেদন পাওয়া গেছে। বায়োমেট্রিক গ্রহণ হয়েছে ২০৮টির। মালদ্বীপের মালে স্টেশনে আবেদন এসেছে ৩২৮টি। ওমানের মাস্কাট স্টেশনে ২ হাজার ৫৭৩টি আবেদন পাওয়া গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া স্টেশনে সবচেয়ে কম ১৩৯টি আবেদন পাওয়া গেছে।
২৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের এই সারসংক্ষেপে ১৪টি দেশ ও ২৪টি স্টেশনের তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সবচেয়ে বড় স্টেশনভিত্তিক কার্যক্রম সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবী ও দুবাই, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিশিগান, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেসকে ঘিরে। এসব কেন্দ্রেই মোট আবেদনের বড় অংশ এসেছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে না ফিরেই ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গতি পায় ২০১৯ সালে। এর আগে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরির সময় থেকেই প্রবাসীদের ভোটার করা এবং এনআইডি দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। ২০১০ সালে ভোটার তালিকা আইনেও প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়। তবে বাস্তবে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের এনআইডি দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৯ সালে। ওই বছরের ৫ নভেম্বর মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের অনলাইনে ভোটার নিবন্ধন ও স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এরপর ১৮ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসে কার্যক্রম ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে বিস্তৃত হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালদ্বীপ, ওমান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে তখন ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা দেওয়া হচ্ছিল। এই ১৪ দেশের সঙ্গে নতুন করে আরও দেশ যুক্ত করার উদ্যোগ নেয় নির্বাচন কমিশন। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, সিঙ্গাপুর ও বাহরাইনকে নতুন করে কার্যক্রমের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরে ৪ আগস্ট ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা উদ্বোধন হয়েছে। উদ্বোধনের সময় তিনজন প্রবাসী বাংলাদেশির হাতে স্মার্ট কার্ডও তুলে দেওয়া হয়। ফলে সিঙ্গাপুরকে এখন আর ভবিষ্যতের তালিকায় নয়, বরং চালু হওয়া কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
এমএইচএইচ/জেবি