নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নবম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন স্কেলে বেতন কার্যকর হবে। দীর্ঘ ১২ বছর পর নতুন পে স্কেল বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার ভিত্তিতে এটি তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ১৯তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা অধিকতর যৌক্তিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বৈঠকের বিস্তারিত জানাতে সন্ধ্যায় তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি।
তিনি বলেন, জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর সঙ্গে সাযুজ্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী ২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে, যা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ ও সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গঠিত সচিব কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর নতুন বেতন স্কেল অনুমোদন করা হয়।
সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন পে স্কেলের মূল বেতনের ৩০ শতাংশ ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে। পরের বছরের শুরুতে আরও ৩৫ শতাংশ এবং পরবর্তী অর্থবছরের জুলাইয়ে অবশিষ্ট অংশ কার্যকরের প্রস্তাব করা হয়েছে। এরপর ওই অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন ভাতা কার্যকরের সুপারিশ করা হতে পারে।
ন্যায্যতার বিষয় বিবেচনায় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত বিদ্যমান ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে। ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বর্তমান সরকার এক গ্রেড এক পেনশন পদ্ধতি প্রবর্তনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বিপুল আর্থিক সংশ্লেষ এবং অসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের পূর্বে অবসরগ্রহণকারীদের তথ্য না থাকায় সরকার এটি পর্যায়ক্রমে ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিকল্প হিসেবে অবসরভোগী পেনশনধারীদের স্ল্যাবভিত্তিক নিট পেনশন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাসিক ৯ হাজার টাকা বা তদনিম্ন নিট পেনশনভোগীদের পেনশন ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তদূর্ধ্ব পেনশনভোগীদের ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালু করা হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যয় বিবেচনায় মোবাইল ভাতার আওতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতদিন শুধু পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীরা এ ভাতা পেতেন। জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী সব গ্রেডের কর্মচারী মোবাইল ভাতা পাবেন।
নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। এজন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা, যার সংস্থান সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের বাজেটে রাখা হয়েছে।
সরকার মনে করে, নতুন বেতন স্কেল সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মউদ্দীপনা বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করবে। বেতন নির্ধারণ পদ্ধতি, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন ও অবসর-পরবর্তী অন্যান্য সুবিধাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত বিধান এতে উল্লেখ থাকবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থাকে বেতন স্কেল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হবে।
এএইচ/এআর