নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলমকে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে এ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রকাশিত ২৯টি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক অংশ নেন।
সভায় এনইসির প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্র কিছু সংশোধনীসহ অনুমোদন করেন উপস্থিত সম্পাদকরা। শফিক রেহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সম্পাদকদের ঐক্য এবং সাংবাদিকতার পেশাগত মানোন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরা হয়।
সভায় এনইসির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, সংগঠনটিকে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বার্থে সম্পাদকদের ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন।
আমার দেশ সম্পাদক বলেন, ‘ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলকে আমরা আরও বিস্তৃত করতে চাই। সাংবাদিকদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো উচিত। স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য সম্পাদকরা যাতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারেন, সেজন্য এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, সংগঠনটি প্রথম সভাতেই গণতান্ত্রিকভাবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যাত্রা শুরু করেছে।
গত ১৭ বছরের সাংবাদিকতার পরিবেশ নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে এসেছে। এখন সাংবাদিক সমাজের আত্মসমালোচনার সময় এসেছে।
তিনি বলেন, কীভাবে সম্পাদকদের একটি অংশ চাটুকারিতার মাধ্যমে সরকারকে ফ্যাসিস্ট হতে সহায়তা করেছিল, সেটিও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, যারা ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিল, তাদের আবার সাংবাদিকতার বাতিঘর বানানো হয়েছিল। এখন সাংবাদিকদের শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়াতে হবে।
যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার বলেন, গত ১৭ বছরে সাংবাদিকতার নামে গণমাধ্যমে যা হয়েছে, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। তাঁর মতে, সংবাদমাধ্যম নানা কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং সেখান থেকে উত্তরণের চেষ্টা এখন করতে হবে। তিনি বলেন, প্রশংসার বদলে সত্যিকার অর্থে আমাদের এখন প্রশ্ন করতে হবে।
আরও পড়ুন
ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের আত্মপ্রকাশ
মিডিয়ার তোষামোদির কারণেই ফ্যাসিবাদ ভয়ংকর হয়ে উঠেছিল: মাহমুদুর রহমান
সাংবাদিকতায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অবদানের কথা তুলে ধরে আব্দুল হাই শিকদার এডিটরস কাউন্সিলের পক্ষ থেকে সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য ‘কাজী নজরুল ইসলাম পদক’ চালুর প্রস্তাব দেন। সভায় প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। এখন থেকে প্রতি বছর সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য এ পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গনি মনসুর বলেন, গত ১৭ বছরে সাংবাদিকতাকে দলবাজিতে পরিণত করা হয়েছিল এবং নানা সুবিধা ও প্রলোভনের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমকে কলুষিত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এনইসিকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
ওয়াদা সম্পাদক ও নবনির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ শফিকুল আলম বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে সম্পাদকদের একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন ছিল। এনইসিকে যেন পুরো বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়, সেজন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে শফিক রেহমান বলেন, দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং গণতান্ত্রিকভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সম্পাদকদের এনইসির প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সাধারণ সভায় আরও বক্তব্য ও মতামত দেন নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, নিউ নেশন সম্পাদক মোকাররম হোসেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরাম, মানবকণ্ঠ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, খবর সংযোগ সম্পাদক শেখ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের খবরের সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন, ভোরের ডাক সম্পাদক কে এম বেলায়েত হোসেন, জনতা সম্পাদক ওবায়দুর রহমান শাহীন, দ্য বাংলাদেশ পোস্ট সম্পাদক সদরুল হাসানসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আরও সম্পাদকরা।
সভায় ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, যশোর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা ও বরিশাল থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন দৈনিকের সম্পাদকরাও অংশ নেন।
জেবি