Dhaka Mail Logo

জাতীয়

গুম-খুনের শিকারদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলির

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

বিগত ১৭ বছরে বলপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের পরিকল্পনার অগ্রগতি জানতে চেয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও ‘মায়ের ডাক’-এর প্রধান সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি।

রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চান তিনি। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

সানজিদা ইসলাম তুলি তার প্রশ্নে বলেন, আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে গত ১৭ বছরে যারা বলপূর্বক গুমের শিকার হয়েছেন, তাদের স্মরণ করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারের পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি অধিদপ্তর গঠন করা হয়েছে। এ উদ্যোগের পরিকল্পনা ও অগ্রগতি কতটুকু হয়েছে, তা জানতে চান তিনি।

জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য ‘জুলাই অধিদপ্তর’ নামে একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সকালে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। সেখানে দল-মত নির্বিশেষে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী কমপ্লেক্সে বড় পরিসরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যেসব নেতাকর্মী গুম, খুন, নির্যাতন, হামলার শিকার হয়েছেন এবং যারা পঙ্গু ও আহত হয়েছেন, তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের জন্য নতুন একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যারা গুমের শিকার, গুমের পরিবার, যারা খুন হয়েছেন ও তাদের পরিবার এবং গত ১৭ বছরে যারা নির্যাতিত হয়েছেন—বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ সব রাজনৈতিক দলের নির্যাতিত নেতাকর্মীসহ সবাইকে আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে চাই, মূল্যায়ন করতে চাই।’

নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গত ১৭ বছরে গুম, খুন ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের অবদান স্মরণ করা হবে বলে জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী।

টিএই/এএস