জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
৩০ আগস্ট ২০২৬, ০২:২০ এএম
‘আমাদের বাবার হাতটা ধরার সুযোগ করে দেন। আমরা আমাদের বাবার হাতটা ধরতে চাই। আমরা আমাদের বাবার গুমের বিচার চাই। ’- কানাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিল গুমের শিকার পারভেজ হোসেনের ১২ বছরের মেয়ে আদিবা ইসলাম।
শনিবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় জাদুঘরের হলরুমে আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে মায়ের ডাক আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয় আদিবা ইসলাম।
কথা বলার সুযোগ পেয়ে আদিবা বলে, ‘আমরা আর এমন সব ছবির (গুমের শিকার স্বজনদের ছবি) প্লাকার্ড নিয়ে দাঁড়াতে চাই না।
‘আমরা আমাদের বাবার হাতটা ধরতে চাই। আমাদের বাবার হাতটা ধরার সুযোগটা দেওয়া হোক৷’
আরও পড়ুন:
সে আরও বলে, ‘রাষ্ট্র আমাদের বাবাকে গুম করেছে। এ কারণে এই রাষ্ট্রকে আমাদের দায়িত্ব নিতে হবে। ’
রাজধানীর নাখালপাড়া থেকে ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গুমের শিকার জন মোহাম্মদ। মায়ের ডাকের অনুষ্ঠানে এসেছিল তার তার ১০ বছরের মেয়ে লামিয়া মিম।
মিম বলে, ‘ওরা আমার বাবাকে যখন নিয়ে গেছে তখন বাবা পানি খেতে চেয়েছিল। পাশের বাসার একজন পানি নিয়ে আসলেও তাকে পানি খেতে দেওয়া হয়নি।’
মে আরও বলেন, ‘আমরা খুন ও গুমের বিচার চাই। আমরা আর এভাবে দাঁড়িয়ে কান্না করতে চাই না।
‘এত বছর হয়েছে কিন্তু আমরা এখনো জানি না আমাদের বাবারা কোথায় আছে, কেমন আছে। আমরা তা জানতে চাই।’
অনুষ্ঠানে গুমের শিকার খালিদ হোসেনের ১৭ বছর বয়সী ছেলে আরিফ হোসেনও এসেছিল।
আরিফ বলে, ‘আমাদের বাবাদের কি হয়েছে, কারা তাদের তুলে নিয়ে গেছে আমরা তা আজও জানতে পারিনি। ’
সে বলেন, ‘গুমের বিচার পাইনি। আমরা এখন শুধু বিচারটাই চাই। আর রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে হবে যে, রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়েই আমাদের বাবাদের গুম করা হয়েছিল৷’
এসময় গুমের শিকার আরও অনেকের সন্তানরা কথা বলে। তাদের দাবি, এসব ঘটনায় যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। এছাড়াও সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের, ব্যারিস্টার আহমেদ বিন কাসেম আরমান, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারাহ হোসেন, মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন ও জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মী জাহিদ হাসান ও মায়ের ডাকের আহ্বায়ক সানজিদা তুলি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এমআইকে/এএম