নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল উল্লেখ করে গুম সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ‘এটি (গুম) মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ।’
‘বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি: একটি পর্যালোচনা’ শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে তিনি এ কথা বলেন।
মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘গুম আসলে মৃত্যুর চেয়ে ভয়াবহ। মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরা শোক প্রকাশ করতে পারেন এবং দাফন-কাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারেন। কিন্তু কেউ গুমের শিকার হলে পরিবার জানতেই পারে না সে কোথায় আছে।’
তিনি বলেন, ‘গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করে। আশা ও হতাশার মাঝামাঝি এক স্থগিত অবস্থায় তারা সামাজিক কলঙ্ক, আর্থিক সংকট ও একঘরে হয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়।’
মঈনুল চৌধুরী বলেন, আগের (আওয়ামী লীগের) সরকারের আমলে গুম ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। সে সময় চরম নৃশংসতা বিদ্যমান ছিল এবং যেখানে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের কেন্দ্রে ছিল গুম। শেষ পর্যন্ত চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এর অবসান ঘটে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রযন্ত্র প্রায়ই ভুক্তভোগীদের অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করতো, যাতে এসব কর্মকাণ্ডকে ন্যায্যতা দেওয়া যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে ‘মানবিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন ও দানবায়িত’ করা হয়েছিল, যাতে এসব কাজ সহজে সম্পন্ন হয়।’
এদিকে, শনিবার (২৯ আগস্ট) এক অনুষ্ঠানে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আমলে গুম ও খুনের শিকার এবং জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও গুরুতর আহত ৭৪ পরিবারের হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার পর গুম-খুন ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা হয়তো কোনোভাবে পূর্ণ করা সম্ভব নয়। তারপরও এতটুকু বলব, আমাদের অবস্থান থেকে আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি, থাকব।’
সরকারপ্রধান আরও বলেন, ‘আজ যারা আমাদের মধ্যে অনুপস্থিত, তারা কোথায় কী অবস্থায় আছেন, একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন। আমাদের উচিত দু’হাত তুলে আল্লাহর দরবারে তাদের জন্য দোয়া করা, যাতে আল্লাহ মানুষগুলোকে সর্বোচ্চ ভালো রাখেন।’
এএইচ