নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েসহ পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও দ্রুত বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে এই কর্মসূচির আয়োজন করেন রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং ঢাকায় অবস্থানরত রংপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকেরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা শুধু নিহতদের স্বজনদের নয়, পুরো সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তাই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি, প্রভাব বা অসঙ্গতির কারণে যেন প্রকৃত সত্য আড়ালে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। সেগুলো নিরপেক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
তাদের দাবি, নিহত পরিবারের সদস্য আগামী চক্রবর্তী ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে এক বান্ধবীকে বাসায় বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়ে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। অথচ আসামিদের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ড মধ্যরাতে সংঘটিত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। এই দুই তথ্যের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
মানববন্ধনে ঘটনার রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান বক্তারা। একই সঙ্গে পাশের একটি মন্দিরের সিসিটিভি ক্যামেরা ওই সময়ে অকার্যকর হয়ে যাওয়ার কারণ খুঁজে বের করার আহ্বানও জানান তারা।
বক্তারা বলেন, নিহত আগামী চক্রবর্তী গত মে মাসে এক বান্ধবীর কাছে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার বিষয়ে পরামর্শ চেয়েছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি কারও কাছ থেকে হুমকি পেয়েছিলেন কি না কিংবা কোনো ধরনের আশঙ্কার মধ্যে ছিলেন কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পুরো পরিবার উদ্ধারের আগে প্রায় দুই দিন নিখোঁজ ছিল। ওই সময়ে প্রতিবেশী ও পরিচিত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও তদন্তের অংশ হওয়া উচিত।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত প্রমাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়। বক্তারা দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে গণপতি চক্রবর্তী ব্যাংক থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা তুলেছিলেন। ওই অর্থ বর্তমানে কোথায় রয়েছে, তা তদন্ত করে নিশ্চিত করতে হবে। গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর ছোট ছেলে প্রিয়মকে গলায় যে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে, সেটিও ফরেনসিক পরীক্ষার আওতায় এনে ডিএনএ ও আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করতে হবে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘শুধু আসামিদের দেওয়া স্বীকারোক্তির ওপর নির্ভর করে এত বড় একটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ করা উচিত নয়। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে সিসিটিভি ফুটেজ, মুঠোফোনের কল রেকর্ড, ব্যাংক লেনদেন, বার্তা আদান-প্রদানসহ সব ধরনের ডিজিটাল ও ফরেনসিক প্রমাণ বিশ্লেষণ করতে হবে।’
তারা আরও বলেন, ‘ন্যায়বিচার কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি নিহতদের পরিবার এবং পুরো সমাজের অধিকার। একটি পরিবারের চার সদস্য হত্যার মতো ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীরা যাতে কোনোভাবেই আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা শাহবাগ থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত মৌন মিছিল করেন। পরে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ হয়।
এএইচ/এএম