নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দীন আহমদ বলেছেন, ৬ মাসে এমন কোনো ঘটনা নেই, যা বিচারের আওতায় আনা হয়নি। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে এই দায়িত্ব নেয়ার পরে একটি ঘটনাও নাই, এমন কোন অপরাধ নাই যেটা সংঘটিত হওয়ার পরপরই পুলিশ বাহিনী সেটা গ্রেফতার করতে পারে নাই বা বিচারের নাই। একটি ঘটনাও নাই। এটাই বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের কৃতিত্ব।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীসহ সকল শৃঙ্খলা বাহিনীর আমি মাঝে-মধ্যে প্রশংসা করি। এইজন্যই করি যে, তাদের ভঙ্গুর মনোবল এবং ভঙ্গুর অবস্থায় যেভাবে আমরা পেয়েছিলাম… এই ছয় মাসের মধ্যে তাদেরকে একটা আমরা অবস্থার উন্নীত করতে পেরেছে…তাদের মনোবল ফিরে এসেছে এবং তারা সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে অপরাধ দমনে তারা স্বচেষ্ট হয়েছে।’
রংপুরের আলোচিত চার হত্যাকাণ্ডের আসামিদেরও যৌক্তিক সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রংপুরের একটি ঘটনার কথা ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সাহেব বললেন সেই ঘটনা সংঘটিত হওয়ার যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এরকম রামিসা হত্যা থেকে শুরু করে যত ঘটনা জাতীয়ভাবে আলোচিত হয়েছে বা আলোচিত হয় নাই প্রত্যেকটা অপরাধের আমরা এড্রেস করতে পেরেছি এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আসতে পেরেছি, আদালতের কাছে সোপর্দ করতে পেরেছি।’
তিনি বলেন, ‘ক্ষেত্র মতে সমাজের চাহিদা অনুসারে সংক্ষিপ্ত সময়ে বিচারিক কার্য সমাপ্ত করার জন্য সহযোগিতা করেছি সবকিছুই আপনারা জানেন। এর চাইতে এই অল্প সময়ের মধ্যে আর বেশি কিছু আশা করা আমাদের মনে হয় ঠিক হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী জনপ্রত্যাশিত জনবান্ধব পুলিশ বাহিনীতে পরিণত হবে ইনশাল্লাহ। রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আমরা কেউ আশা করতে পারি না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ দেশের গণমানুষের নেতা জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্দেশনায় আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে একটা এমন পর্যায়ে উন্নীত করতে পারব… ইনশাল্লাহ জনপ্রত্যাশা পূরণ হবে। এই বাহিনী জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর আইনি কাঠামো পরিবর্তন আনা হচ্ছে । তাদেরকে যেমন একাউন্টেবিলিটি এবং তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে, তেমনি তাদের কর্মকাণ্ডের ট্রান্সপারেন্সি স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করা হবে। আমরা যেমন বলি,দুষ্টের দমন সৃষ্টের পালননীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তাদেরকে আমরা পুরস্কৃত করছি, এ্যাওয়ার্ড দিচ্ছি, সনদ দিচ্ছি, বিভিন্নভাবে পদক দেয়া হচ্ছে ভালো কাজের জন্য, তাদের কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যে শৃঙ্খলা বাহিনী উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে ২৪ এর ছাত্রগণ অভ্যত্থান পরবর্তীতে যে বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, যে আকাশসম উচ্চতার জনপ্রত্যাশা আমরা পেয়েছি… আমাদের যেটা প্রত্যাশা আছে সবকিছু আমাদেরকে একই সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। শৃঙ্খলা বাহিনীর আধুনিকায়ন, মনোবল বৃদ্ধি করা, তাদেরকে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করা… এই কাজগুলো একসঙ্গে করতে হবে যা আমরা করে যাচ্ছি। ’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে মিলাদ মাহফিলে চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি, রফিক শিকদার, তরিকুল ইসলাম তেনজিং, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ ছিলেন।
বিইউ/এআরএম/এএম