নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম
গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে দেশের প্রতিটি জেলায় ‘সেরা গ্রাম আদালত কার্যক্রম পরিচালনাকারী ইউনিয়ন পরিষদ’ ও ‘সেরা চেয়ারম্যান’ নির্বাচন করবে সরকার।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্যে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি এবং ভালো কার্যক্রম পরিচালনাকারীদের স্বীকৃতি ও পুরস্কার দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
পরিপত্রে দেশের সব জেলা প্রশাসককে নিজ নিজ জেলার আওতাধীন ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্য থেকে নির্ধারিত বহুসূচক ও মানদণ্ডের ভিত্তিতে সেরা ইউনিয়ন পরিষদ ও সেরা চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে বলা হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ’ প্রকল্পের আওতায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে উৎসাহজনক অর্জনকারী ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে চিহ্নিত করে স্বীকৃতি ও পুরস্কার দেওয়া হবে। এর ফলে অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদও গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে আরও সক্রিয় ও মানসম্মতভাবে অংশগ্রহণে উৎসাহিত হবে।
সেরা ইউনিয়ন পরিষদ ও চেয়ারম্যান নির্বাচনের ক্ষেত্রে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে দায়ের হওয়া মোট মামলার সংখ্যা, নারী আবেদনকারীর সংখ্যা এবং মামলা নিষ্পত্তির হার বিবেচনায় নেওয়া হবে। পাশাপাশি সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি, ফি ও জরিমানা আদায়ের ক্ষেত্রে বিধিবিধান অনুসরণের সক্ষমতাও মূল্যায়ন করা হবে।
এ ছাড়া গ্রাম আদালত পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় বিশেষ ফান্ড বা অনুদানের যথাযথ ব্যবহার, মামলা ও বিরোধ নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত নথি সংরক্ষণ, লিখিত তথ্য সংরক্ষণ এবং গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ব্যবস্থাপনায় দক্ষতাকেও মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে।
জেলা প্রশাসকদের এসব সূচক ও মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রতিটি জেলার সেরা ইউনিয়ন পরিষদ ও সেরা চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে বলা হয়েছে। নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ ও চেয়ারম্যানকে স্থানীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি ও পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে উৎসাহিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর জবাবদিহি ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পরিপত্রে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে সহায়তাকারী ইউনিয়ন পরিষদ সচিব এবং হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের মাসিক সম্মানী ও যাতায়াত ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে পরিপত্রটি পাঠানো হয়েছে।
এএইচ/এআরএম