জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)-এর সাবেক সভাপতি আবদুস শহিদ গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। সাংবাদিকদের রুটি-রুজির প্রশ্নেও তিনি সর্বদা ছিলেন সোচ্চার।
সোমবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বক্তারা এ কথা বলেন। স্মরণসভার শুরুতে প্রয়াত আবদুস শহিদ ও বর্ষীয়ান ফটোসাংবাদিক সাংবাদিক খালেদ হায়দারের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, আবদুস শহিদ একজন ভালো মানুষ, ভালো সাংবাদিক ও ভালো নেতা ছিলেন। তিনি যেকোনো সমস্যার সুন্দর সমাধান করতে পারতেন। তিনি বেঁচে না থাকলেও তাঁর আদর্শ বেঁচে থাকবে।
বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, সাংবাদিক আবদুস শহিদ ছিলেন অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ। সারাজীবন তিনি সাহসিকতার সঙ্গে সাংবাদিকতা করেছেন। দেশ ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি। ওপার বাংলার ‘সাংসদ’, ‘প্রয়াত’, ‘সমাধি’ ইত্যাদি শব্দ আমদানি শুরু হলে তিনি এর কঠোর বিরোধিতা করতেন। এসব শব্দ ব্যবহারের অনুমতি দিতেন না। তরুণ সাংবাদিকদের উচিত আবদুস শহিদের আদর্শকে ধারণ করে নীতিনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করা।
ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ বাকের হোসাইন বলেন, দলীয় রাজনীতির প্রভাবে আজ সাংবাদিক সমাজ বিভক্ত। এ কারণে আবদুস শহিদদের যে ভূমিকা ছিল, তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা যাচ্ছে না। এতে যেমন গণমাধ্যমের মান অবনতি ঘটছে, তেমনি সাংবাদিকরাও পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিভক্তির কারণে সাংবাদিকেরা যথার্থ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারছেন না।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম বলেন, আবদুস শহিদ সত্য বলার ক্ষেত্রে কখনো ভয় পাননি। সত্য প্রকাশের জন্য তিনি কারাবরণ করেছেন, চাকরিচ্যুত হয়েছেন, তবু আপস করেননি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর আপসহীন ভূমিকা তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক বলেন, সাংবাদিক আবদুস শহিদ নিজের পরিবার-পরিজনের ভালো জীবনের জন্য কাজকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। এজন্য ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ করতেও দ্বিধা করেননি। সততা, সাহসিকতা ও আপসহীনতার দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন।
ডিইউজের কোষাধ্যক্ষ দিদারুল আলম বলেন, আবদুস শহিদ ছিলেন সত্যিকারের জাতীয়তাবাদী। তিনি দায়িত্বশীল, কর্মপাগল এবং সৎ-সাহসী সাংবাদিক ছিলেন। তিনি চৌকস ফোরাম লিডারও ছিলেন। অকপটে সত্য কথা বলার ক্ষমতা ছিল তাঁর।
বিএফইউজের সহসভাপতি একেএম মহসিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় শহীদুল ইসলাম, শাহজান সাজু, সদরুল হাসান, বেলায়েত হোসেন, নিজাম উদ্দিন দরবেশ, আবদুল্লাহ মজুমদার, ফখরুল ইসলাম প্রমুখ [অংশ নেন—বাক্যটি অসম্পূর্ণ]।
বিইউ