Dhaka Mail Logo

জাতীয়

সৌদিতে উচ্চ বেতনের প্রলোভনে মানব পাচার, ৫১ পাসপোর্টসহ গ্রেফতার ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম

‎সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় মোটা অঙ্কের টাকা বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। 

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকালে বনানী (ডিএমপি) থানার সৈনিক ক্লাব এলাকা থেকে সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. শামীম, মো. রুহুল আমিন, মো. হৃদয় হাসান, আবু রায়হান ও মো. সানি মিয়া।

এসময় তাদের কাছ থেকে ৫১টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, তিনটি স্মার্টফোন ও কয়েকটি রেজিস্টার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়।

‎সোমবার (২৪ আগস্ট) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, ভুক্তভোগী বাদী একটি অনলাইন বিজ্ঞাপনে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় মাসিক ২,৫০০ রিয়াল বেতনে চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে কথা বলা হয়। বিজ্ঞাপনে দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে চক্রের এক সদস্য ভুক্তভোগীকে বনানীর সৈনিক ক্লাব এলাকায় অবস্থিত অফিসে যোগাযোগ করতে বলে। 

পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় একটি কোম্পানিতে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে মোট ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী বিদেশ যাওয়ার আগেই সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের কথা বলা হয়। 

এরই ধারাবাহিকতায় চক্রটি বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ব্যাংক ও নগদে মোট ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা গ্রহণ করে। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ড্রাইভিং ভিসা না দিয়ে তাকে সৌদি আরবের ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী বাদী বনানী থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন।

‎মামলার পর গত রোববার (২৩ আগস্ট) বিকালে বনানী (ডিএমপি) থানার সৈনিক ক্লাব এলাকা থেকে সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) তাদের গ্রেফতার করে।

‎জসীম উদ্দিন খান জানান, চক্রটি একইভাবে বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে আনুমানিক ১৯ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। এছাড়া বিদেশে কর্মসংস্থানের আকর্ষণীয় প্রস্তাব ও অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে তাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তির পাসপোর্ট সংগ্রহ ও নিজেদের হেফাজতে রেখে আসামিরা মানবপাচার ও প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির মানবপাচার শাখা ।

‎তিনি আরও জানান, মামলাটির তদন্তে গ্রেফতারকৃতদের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি, পলাতক আসামি এবং চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগী ও সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

‎ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ দাবি করলে, পাসপোর্ট জিম্মি করে রাখলে অথবা ভিসা জালিয়াতি, মানবপাচার কিংবা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ হলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা তাদেরকে জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে সিআইডি।‎

একেএস/এএইচ