নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:১০ পিএম
বিএনপি সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সহকারী এবং সংসদ সদস্যদের ঘিরে গত ছয় মাসে অন্তত ২৬২টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশ অপতথ্যই ছিল নেতিবাচক। ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত এসব অপতথ্য শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অনলাইন তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার।
রিউমার স্ক্যানারের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপতথ্যের শিকার হয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাকে ঘিরে শনাক্ত ৪৮টি অপতথ্যের সবগুলোই ছিল নেতিবাচক।
এরপর শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে ঘিরে ৩৩টি এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকারী ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ঘিরে ২৬টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে।
এছাড়া সংসদে স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে হাফিজ উদ্দিন আহমদকে ঘিরে ২৩টি, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীকে ঘিরে ১৬টি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ঘিরে ১৫টি, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে ঘিরে ১৪টি এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে ঘিরে ১৪টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরকে ঘিরে ১১টি, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ঘিরে ৮টি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে ঘিরে ৭টি অপতথ্য পাওয়া গেছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে ঘিরে ৬টি, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে ঘিরে ৫টি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ঘিরে ৪টি এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকিকে ঘিরে ৩টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (যুব কর্মসংস্থানবিষয়ক) সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) রাশেদ খান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে ঘিরে দুটি করে অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকারী জহির উদ্দীন স্বপন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনকে ঘিরে একটি করে অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে।
সরকারে থাকা বিএনপির নারী নেত্রীদের ঘিরেও গত ছয় মাসে অপতথ্যের প্রবাহ দেখা গেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদকে ঘিরে চারটি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকারী আফরোজা খানম রিতাকে ঘিরে একটি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। তাদের ঘিরে শনাক্ত সব অপতথ্যই ছিল নেতিবাচক।
সরকারের ১৮০ দিনে বিএনপির সংসদ সদস্যদের ঘিরেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপতথ্যের লক্ষ্য ছিলেন সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান। তাকে ঘিরে ১৬টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে।
এ ছাড়া লুৎফুজ্জামান বাবরকে ঘিরে ৫টি, মানসুরা আলমকে ঘিরে ৩টি এবং বরকত উল্লাহ বুলু, মনিরুল হক চৌধুরী, শাহাদাত হোসেন সেলিম ও নিলোফার চৌধুরী মনিকে ঘিরে দুটি করে অপতথ্য পাওয়া গেছে।
জয়নুল আবদিন ফারুক, ড. মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মাহবুব উদ্দিন খোকন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, শফিকুর রহমান কিরন, তাহসিনা রুশদীর লুনা, সুবর্ণা শিকদার ঠাকুর, সানজিদা ইসলাম তুলি, জীবা আমিনা খান, শওকত আরা আক্তার (উর্মি) এবং আন্দালিব রহমান পার্থকে ঘিরে একটি করে অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে।
এমআর/এএস