নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান, গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমান ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
রোববার (২৩ আগস্ট) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
গ্রেফতাররা হলেন- সানি সাহা ও ফাতিন ইসরাক লাবিব।
শফিকুল ইসলাম জানান, গত ২৭ জুলাই ধানমন্ডি ৪ নম্বর রোডে ৫ জন দুষ্কৃতকারী গাড়ি প্রতিরোধ করে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল হাসপাতালের ইএনটি মেডিসিনের অধ্যাপক এ কে এম আমিনুল হককে হুমকি দেয়। এছাড়াও, গত ১৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টায় শান্তিনগর এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখা শেষে নিজ বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে বের হন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান, গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমান। রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে রাস্তায় তিনি একটি সিএনজিতে ওঠার সময় জীবন ওরফে আদিলসহ কয়েকজন তার সিএনজির গতিরোধ করে। এ সময় গতিরোধের কারণ জানতে চাইলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে চিকিৎসককে সিএনজি থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে জীবন ওরফে আদিল চিকিৎসকের ডান চোখে গুরুতর জখম করে। অন্য আসামিরা তার মাথা, দুই চোখের ওপরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এ সময় তারা চিকিৎসককে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে।
‘ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন বিষয়টি পল্টন মডেল থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে জীবন ওরফে আদিলকে আটক করে। এ সময় অন্যরা কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে আহত চিকিৎসককে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।’
তিনি বলেন, এ ঘটনায় ডা. মো. আসাদুর রহমান বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় জীবন ওরফে আদিলসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, ঘটনার কিছুদিন আগে একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে চিকিৎসকের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন করে তার কাছে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।
ডিবি প্রধান বলেন, এ ঘটনার পর হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও তদন্ত শুরু করে ডিবি। রোববার (২২ আগস্ট) রাত ১২টার পর শনির আখড়া গোয়ালপাড়া কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে সানি সাহাকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও, রাত আড়াইটায় নিকুঞ্জ-২ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফাতিন ইসরাক লাবিবকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, সানি সাহা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, সে গত ২০২২-২০২৫ সাল পর্যন্ত ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় সিঙ্গাপুরে একটি কোম্পানিতে প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলো। সে সময় ২০২৩ সালে জান্নাত আলমগীর হোসেনের সাথে তার পরিচয় হয়। তারপর আলমগীর হোসেন সানি সাহাকে প্রস্তাব করে যে, মানি লন্ডারিং প্রক্রিয়ায় টাকা আয় করা যাবে। এমন প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সে মানি লন্ডারিং ব্যবসায় বিভিন্ন সময়ে ৫ কোটি টাকা ইনভেস্ট করে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সানি সাহা গত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের ৮/৯ তারিখে বাংলাদেশে আসলে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জান্নাত আলমগীর হোসেনের সাথে দেখা হয় এবং জান্নাত আলমগীর হোসেন সমাজের উচ্চবিত্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে ব্যক্তিগত তথ্যাদি সংগ্রহ করা (বাসার ঠিকানা, গাড়ির নাম্বার, পেশা, গতিবিধি এবং আর্থিক বিষয়াদি) সানির উপর উক্ত দায়িত্ব অর্পণ করে। ওই সময় অধ্যাপক এ কে এম আমিনুল হক ও অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে প্রাণনাশের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে হুমকি-ধামকি দিয়ে বিশাল অংকের অর্থ আদায়ের জন্য সানি সাহাকে দায়িত্ব দেয়। এ দায়িত্ব পেয়ে সানি সাহা ফাতিন ইসরাক লাবিবকে হামলায় অংশগ্রহণকারী সদস্য সংগ্রহের কাজ দেয়।
শফিকুল ইসলাম আরও জানান, ফাতিন ইসরাক লাবিব জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, ওই ঘটনার আনুমানিক আড়াই মাস আগে অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার মূল পরিকল্পনাকারী সানি সাহার সাথে ফুড ডেলিভারির মাধ্যমে পরিচয় হয়। পরিচয় হওয়ার কয়েকদিন পর সে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সরাসরি সাক্ষাৎ করে। পরবর্তীতে ফাতিন ইসরাক লাবিব অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার জন্য আবু বকর, রাতুল, ইবান, জীবন ও সাব্বিরকে এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে তার সাথে কাজ করতে বলে। পরবর্তীতে তারা সকলে মিলে ডাক্তারদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় ইবান ও জীবন নামে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো। তারা এখন জেল হাজতে আছে।
ডিবি আরও জানায়, সানি সাহা ও ফাতিন ইসরাক লাবিবের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে।
একেএস/এএস