নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
গঙ্গা (পদ্মা) ব্যারেজ প্রকল্প বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে ১০টি প্রশ্ন রেখেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন)।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সংগঠন দুটির আয়োজিত ‘গঙ্গা (পদ্মা) ব্যারেজ: কতিপয় প্রশ্ন ও প্রস্তাব’ শীর্ষক এক জাতীয় মতবিনিময় সভায় এসব প্রশ্ন উপস্থাপন করা হয়।
উপস্থাপিত প্রশ্নগুলো হলো- ১. এই প্রকল্প নিয়ে এতো গোপনীয়তা কেন? ২. ব্যারেজ কি শুধু বর্ষাকালের পানি শীতকালে ব্যবহার করবে? ৩. ভাটি এলাকার উপর ব্যারেজের অভিঘাতের আলোচনা কোথায়? ৪. গঙ্গার বর্ষাকালীন প্রবাহ এখন শাখাসমূহে প্রবাহিত হয় না কেন? ৫. দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জলাবদ্ধতা সমস্যার আলোচনা ও সমাধান কোথায়?
এছাড়া, ৬. উজানে পলি পতন, বন্যা, এবং পাড়-ভাঙনে বিষয়ে ব্যারেজের প্রবক্তদের কতটা আশ্বস্ত হওয়া যায়? ৭. পাংশার উজানে ব্যারেজের বিভিন্ন উপকারিতার অনুমান কতখানি নির্ভরযোগ্য? ৮. এই ব্যারেজ কি গঙ্গার পানি ভাগাভাগির ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দুর্বল করবে না?
৯. এত পুরানো তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রকল্প প্রণয়ন কেন? ১০. বর্তমান নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এত ব্যয়বহুল এবং প্রশ্নবিদ্ধ ব্যারাজ প্রকল্প কতখানি উপযোগী?
তবে সরকারি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম)-এর সাবেক নির্বহিী পরিচালক এবং এই প্রকল্পের একজন ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা এস এম মাহবুবুর রহমান উত্থাপিত ১০টি প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘এই প্রকল্প নিয়ে যথেষ্ট গবেষণার পরেই এটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। চায়না-ইন্ডয়া সবাইকে নিয়েই এই প্রকল্প করা হয়েছে।’
উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘গঙ্গা প্রকল্পে এতো গোপনীয়তা কেন সেই প্রশ্নের উত্তর তার জানা নাই। অক্টোবরে ব্যাজের দরজাগুলো বন্ধ করা হবে এবং উপরে যে জলাধারগুলো সৃষ্টি হবে সেখান থেকে যেই সময়ে পানি পাওয়া যাবেনা শুকনো মৌসুমে সেই সময় পানি সাপ্লাই দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভাটি অঞ্চলের গঙ্গা ব্যারেজের উপরিভাগে অভিঘাতের বিষয়টি এই নিয়ে আলাদা একটা চ্যাপ্টার আছে। সেখানে বিস্তারিত দেওয়া আছে। ডাউস্ট্রমে কী? ধরণের পরিবেশগত প্রভাব পড়বে।’
যে করেই হোক এই প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিমত ব্যক্তও করেন আইডব্লিউএম’র সাবেক নির্বহিী পরিচালক।
বাপার সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির সঞ্চালনায় সভায় অধ্যাপক এম. ফিরোজ আহমেদ। এতে যৌথভাবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপার সহসভাপতি ও এশীয় প্রবৃদ্ধি ইনস্টিটিউট ও জাতিসংঘের উন্নয়ন গবেষণা বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম এবং বাপার সহসভাপতি ও কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার ভূতত্ত্ব ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার বলেন, ‘যারা উজানে থাকে তারা সবসময় ভালো অবস্থানে থাকে। প্রকল্প করেন কিন্তু এত গোপনীয়তা কেন? এটা জনগণের নিকট প্রকাশ করতে হবে।’
অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘পশ্চিম দিকে বাঁধ দেওয়ার ফলে পানি থাকে না। এই গঙ্গা ব্যারেজের প্রস্তাব পঁয়ষট্টির দশকেই করা হয় ভারত সরকারকে কাউন্টার করার জন্য। এই প্রকল্প অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সরকারের উচিত এই প্রকল্পের সব তথ্য জনগণের কাছে উন্মুক্ত করা সবার স্বার্থে।’
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে, প্রস্তাবিত ব্যারেজের মোট দৈর্ঘ্য ২.১ কিলোমিটার। এরমধ্যে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে (পানি নির্গমনের কপাট, প্রতিটি ১৮X১২ মিটার); ১৮টি তলদেশ নির্গমনপথ (আন্ডারস্লুইস, প্রতিটি ১৮X১৪.৫ মিটার)। প্রস্তাব করা হচ্ছে যে, এই ব্যারেজের ফলে পানখা (বাংলাদেশের যে সীমান্তবিন্দু দিয়ে গঙ্গা ভারত থেকে প্রবেশ করে) থেকে পাংশা পর্যন্ত বাংলাদেশস্থ গঙ্গার পানি উচ্চতা ১২.৫ মিটার রাখা সম্ভব হবে এবং যার ফলে গঙ্গাখাতে সঞ্চিত পানির পরিমাণ হবে ২৮৯.১ কোটি ঘনমিটার।’
তিনি বলেন, ‘প্রকল্প সম্ভাব্যতা প্রতিবেদনে আরও জানানো হয় যে, গঙ্গা-নির্ভর-এলাকার পরিবেশের উপর এই ব্যারেজ ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রথমত, নদনদীতে প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে সাধারণভাবে এই এলাকার পরিবেশের উন্নতি ঘটবে। দ্বিতীয়ত, সমুদ্রের লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ হ্রাস পাবে এবং বর্তমানের অনেক ‘অত্যধিক লবণাক্ত এলাকা’ ক্রমে ‘সীমিত লবণাক্ত এলাকা’য় পরিণত হবে। তৃতীয়ত, সুন্দরবনে নদীর মিঠাপানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং তার ফলে এই বনের অবক্ষয় রোধ পাবে। সুন্দরবনের ৩৩ শতাংশ ‘স্বল্প কিংবা সহনীয় স্বল্প’ লবণাক্ততা জোনে অন্তর্ভুক্ত হবে। এছাড়া এই বনের ১১,০০০ হেক্টর ‘অত্যন্ত স্বল্প লবণাক্ত’ (০.৫ ppt’র চেয়ে কম) জোনে অন্তর্ভুক্ত হবে। ব্যারেজের ফলে সুন্দরী গাছ থেকে ৭.৭Mm3 টিম্বার এবং ১.২৫ Mm3 ক্রাউন পাওয়া যাবে। গেওয়ার জন্য এসব পরিমাণ হবে যথাক্রমে ৬.৪ Mm3 এবং ১.১ Mm3। অর্থাৎ, সুন্দরবনের উৎপাদনশীলতা ও জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাবে।’
অধ্যাপক নজরুল বলেন, ‘আমাদের সরকারের প্রথম কাজ হবে আন্তর্জাতিক নদী ব্যবহার সংক্রান্ত জাতিসংঘের ১৯৯৭ সালের সনদ স্বাক্ষর করা। দ্বিতীয়ত, গঙ্গার পানি ভাগাভাগি সংক্রান্ত ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-ভারত চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ শিগগিরই শেষ হবে এবং এই চুক্তির নবায়নের বিষয়ে ভারতের সঙ্গে দেন-দরবারের জন্য বাংলাদেশকে এখনই প্রস্তুত হতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের নিকট যা তথ্য উপাত্ত আছে তা দ্রুত জনগণের নিকট প্রকাশ করা হোক।’
অধ্যাপক খালেকুজ্জামান তার লিখিত প্রবন্ধে বলেন, ‘ভূ-উপরিস্থ পানি প্রবাহ এবং ব্যবস্থাপনার মৌলিক নীতি হচ্ছে অববাহিকা-ভিত্তিক সমন্বিত পানি-পলি-ভূগাঠনিক পরিবর্তনকে আমলে নিয়ে শুধু শুকনো মৌসুমের জন্য নয় বরং অববাহিকা-ভিত্তিক দীর্ঘ-মেয়াদী সুফল-কুফল ভাগাভাগি করে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া। গঙ্গা অববাহিকার মাত্র ৪% এলাকা বাংলাদেশে অবস্থিত হলেও দেশের ৩৭% এলাকা এবং ৩৩% মানুষের বাস। উজানের সমস্ত প্রাকৃতিক এবং মানব-সৃষ্ট কর্মকাণ্ডের প্রভাব কিন্তু ভাটির দেশে হিসাবে বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশী পড়ে। গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিতে অববাহিকা-ভিত্তিক বাস্তবতাকে আমলে নেওয়া হয়নি (নেপাল অংশ নয়) এবং ফারাক্কা ছাড়াও সর্বসাকুল্যে ৩০০ অবকাঠামো রয়েছে যার মাধ্যমে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বিঘ্নিত হয়; জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভবিষ্যতে নির্মিত উজানের অবকাঠামো এই প্রবাহকে আরো বিঘ্নিত করবে।’
তিনি বলেন, ‘পদ্মা ব্যারেজের জন্য প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন ডকুমেন্টে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী সম্ভাব্যতা সমীক্ষাটি ২০১০ সাল পর্যন্ত পানি প্রবাহের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে; ২০২৬ পর্যন্ত উপাত্ত নেওয়া হয়নি। সমীক্ষা অনুযায়ী, ১৯৯৭-২০২০ সালের এপ্রিলের গড় প্রবাহের পরিমাণ ছিল ৯৩৪ কিউমেক (৩২,৯৭০ কিউসেক) এবং সর্বনিম্ন প্রবাহ ছিলো ১১,৬৪৯ কিউসেক যা কিনা মার্চ মাসে ছিল মাত্র ৭,৪৮৩ কিউসেক। তাহলে প্রস্তাবিত ২৮,২৪০ কিউসেক পানি কোথা থেকে আসবে? গঙ্গা পানি- বন্টন চুক্তিতে কোন গ্যারান্টি ক্লজ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে ফারাক্কাতে গঙ্গার প্রবাহ বিষয়ে ভারতে দারুণ অস্বস্তি বিদ্যমান; ১৯৯২-৯৩ সনে ফারাক্কায় প্রবাহ টানা ২০ ধরে ৪০,০০০ কিউসেকের নিচে নেমে আসে। চুক্তি অনুযায়ী, হুগলী-ভাগীরথীতে ৩৫,০০০ কিউসেক সরিয়ে নেওয়ার পর বাংলাদেশের জন্য ক্রিটিক্যাল পিরিয়ডে (মার্চ-মে) ৫,০০০ কিউসেক দেওয়া যাবে। ভারতের পরিবেশবিদ কল্যাণ রুদ্রের মতে, পশ্চিমবঙ্গে ২০২৫ সালে চাহিদার তুলনায় ৫৯% সরবরাহ ঘাটতি ছিল। পদ্মায় অতিরিক্ত পানি প্রবাহের সময় ব্যারেজের ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে উজানে ২০–৩০ কিমি জুড়ে ভয়াবহ বন্যা ও পলি জমবে, আর ভাটিতে তীব্র স্রোতের (৪.৭৬ মি/সে) কারণে ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দেবে। শুষ্ক মৌসুমের সংকট ও ভুল ডিজাইন: খরার সময়ে প্রয়োজনীয় ২.৯ বিসিএম পানি জমাতেই ৩৬ দিন লেগে যাবে। ফলে এই ব্যারেজ মূলত বর্ষার পানি ধরে রাখার বদলে ভাটির অঞ্চলকে পানি থেকে বঞ্চিত করার নীতিতে তৈরি।’
সভায় অংশ নিয়ে বিশিষ্ট কৃষি অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ‘এক পক্ষের যুক্তি হচ্ছে ব্যারেজ করা। যুক্তি শুষ্ক মৌসুমে পানি সংগ্রহ করা কিন্তু অন্য পক্ষের যুক্তি হচ্ছে এই সংগৃহীতি পানি যথেষ্ট না। বর্তমান এ যে সমস্যা গুলা হচ্ছে, সেগুলা আমলে নেওয়া হোক। আমাদের মূল উদ্দেশ্য খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষক এর উন্নয়ন ও অনেক বেশি জরুরি। যা আমাদের জন্য ভালো আমাদের তাই করা উচিত সব দিক বিবেচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)’র সাবেক মহাপরিচালক, ড. মো. শাহজাহান কবীর বলেন, ‘বিগত কয়েক দশকে উজানের পানি প্রত্যাহার, নদীর নাব্যতা হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তন এবং লবণাক্ততার বিস্তারের কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এক গভীর পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে। একসময় যেসব নদী সারা বছর প্রবাহমান ছিল, আজ সেগুলোর অনেকই শুষ্ক মৌসুমে মৃতপ্রায়। গড়াই নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার ফলে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলে লবণাক্ততা দ্রুত বেড়েছে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে, মিষ্টি পানির মাছ হ্রাস পেয়েছে এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়েছে। বহু গবেষণা ও সরকারি নথিতে ফারাক্কা ব্যারাজের পরবর্তী প্রভাব হিসেবে এসব পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার সম্প্রতি পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে, যা ইতোমধ্যে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেউ এটিকে বাংলাদেশের পানি, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ রক্ষায় সম্ভাব্য ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল, পরিবেশগতভাবে জটিল ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ বলে মনে করছেন।’
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বর্ষাকালে পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে তা নিয়ন্ত্রিতভাবে সরবরাহ করা। প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ীর পাংশায় প্রায় ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে, যেখানে প্রায় ২,৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এর অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘পৃথিবীর প্রায় ১ লক্ষের বেশি ব্যারেজ আছে। ব্যারেজের প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই আছে। আমাদের খাদ্য উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা আছে, অতীতে যে রকম শুধু বৃষ্টির পানিতে কৃষ্টি নির্ভর থাকা যেত তা এখন আর করা যায় না। বর্তমান এ ব্যারেজ এর প্রয়োজনীয়তা শুধু কৃষিই কাজ এ না বরং এর আরও ব্যবহার রয়েছে। বর্তমানে অনেক জায়গাতেই অপ্রয়োজনীও ব্যারেজ অপসারণ করা হচ্ছে বাংলাদেশেই শুধু ২টা স্থান এই ব্যারেজ দেওয়া সম্ভব পদ্মা এবং তিস্তাতে। পদ্মাতে ব্যারেজ যদিও পরিবেশবিদ দের বিরোধিতা আছে কিন্তু এর কিছু অর্থনৈতিক গুরুত্ব আছে। তা না হলে আমাদের ব্যারেজ এর বিকল্প কী? হবে তা ভাবা দরকার।’
ভূতত্ত্ববিদ, অধ্যাপক ড. আহাদ চৌধুরী বলেন, ‘পদ্মা ব্যারেজ জাতীয় উন্নয়ন হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। আমরা যদি প্রকৌশল গত উন্নয়ন না করি তাহলে আমরা অনেক পিছিয়ে যাব। বাংলাদেশ কে আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য দেশের নদীগুলোকে না মেরে বরং জীবন্ত প্রবাহ নিশ্চিত করেই প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।’
লেখক-গবেষক শেখ রোকন বলেন, ‘সঠিক তথ্য না থাকা কারণ সরকার নদী পত্র প্রকাশ করে না। ক্রান্তি -গঙ্গা নিয়ে কথা বললে ভারত এর দালাল বলা হয়। কৌতুক- পদ্মা ব্যারেজ এর নাম গঙ্গা ব্যারেজ হওয়া উচিত। পদ্মা নদীর সাথে সংযোগ আছে বলেই মূল নদী গঙ্গা কে বাদ দেওয়া যাবে না । চীন-ভারত প্রশ্নে বিভিন্ন রাজনৈতিক কারণে অনেক চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।’
পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ মালিক ফিদা এ খান বলেন, ‘পদ্মা ব্যারেজ যে সবসময় খোলা থাকবে তা না ১৯ জুলাই থেকে ১০ অক্টোবর শুধু টানা ব্যারেজ খোলা থাকবে যদি ব্যারেজ না থাকে তাহলে আমাদের বিকল্প কী? বাকি যেই বিকল্প আছে তা অত্যধিক বায়বহুল।’
সভায় অন্যানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাপার সহ-সভাপতি মহিদুল হক খান, অধ্যাপক ড. এম. শহীদুল ইসলাম, জাকির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবির সুমন, নির্বাহী সদস্য এড. পারভিীন আক্তার, গাউস পিয়ারী, আশরাফ আমিরুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় ও জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ।
এএইচ/এএম