Dhaka Mail Logo

জাতীয়

নতুন পে-স্কেল কার্যকরের সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫২ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। তবে এটি কবে থেকে কার্যকর হবে এবং একবারে নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রিসভা সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব পর্যালোচনা করার পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।’

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে ঋণও নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।  তিনি বলেন, ‘ঋণ নেওয়াকে সরকার নেতিবাচক হিসেবে দেখছে না; বরং সেই ঋণ অর্থনীতিতে কী ধরনের গুণপ্রভাব সৃষ্টি করবে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘পে-স্কেল প্রণয়নের কাজ সাধারণত তিনটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। প্রথম পর্যায়ে পে সার্ভিস কমিশন, সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সংশ্লিষ্ট পে কমিটি এবং বিচার বিভাগের জন্য জুডিশিয়াল পে কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। এসব প্রতিবেদনের মধ্যে পে সার্ভিস কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিবেদনের ওপর সচিব কমিটি পর্যালোচনা করে সুপারিশ দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগের পে-স্কেলের জন্য মন্ত্রিপরিষদ গঠিত একটি পৃথক কমিটি রয়েছে এবং ওই কমিটির প্রথম সভাও ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের বাস্তবতা, বিষয়টির সংবেদনশীলতা এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় নিয়ে কমিটি তাদের প্রতিবেদন দেবে। এর মাধ্যমে পে-স্কেল প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় পর্যায় শেষ হবে। এরপর তৃতীয় পর্যায়ে মন্ত্রিসভা সব সুপারিশ পর্যালোচনা করবে। কোন বিষয় কবে থেকে কার্যকর হবে এবং বাস্তবায়নের ধাপ কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকেই নেওয়া হবে।’

নতুন পে-স্কেলের অতিরিক্ত অর্থ কোথা থেকে আসবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিতুমীর বলেন, সরকার প্রথমে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেবে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ঋণও নেওয়া হবে। তবে ঋণ নেওয়ার বিষয়টিকে তিনি এককভাবে সমস্যা হিসেবে দেখেন না। 

তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঋণ নিয়ে চলে কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাজেট ঘাটতির পরিমাণ, মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় কর আহরণের হার এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো খাতে কত ব্যয় করা হচ্ছে।’

ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে চারটি বিষয় বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন অর্থ উপদেষ্টা।  তিনি বলেন, ‘সেগুলো হলো বিনিয়োগের ওপর প্রত্যাশিত রিটার্ন, ভবিষ্যতের পরিবেশগত প্রভাব, অর্থের যথাযথ মূল্য এবং তাৎক্ষণিক গুণপ্রভাব। তার ভাষায়, ঋণ নিয়ে যদি অর্থনীতিতে ইতিবাচক গুণপ্রভাব সৃষ্টি করা যায়, তাহলে সেই ঋণ নেতিবাচক নয়।’

পে-স্কেলের সুবিধা সীমিতসংখ্যক সরকারি চাকরিজীবী পাবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে সরকারি ও বেসরকারি খাতের বেতন কাঠামো তুলনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিতুমীর বলেন, ‘একই ধরনের কাজ ও দায়িত্বের ক্ষেত্রেই তুলনা করা উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বেতন এবং একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বেতন সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়। কর্ম অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের নীতিই অনুসরণ করা উচিত।’

বেতন বাড়ালে দুর্নীতি কমবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সরকার এমন কোনো নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। সরকারের উদ্দেশ্য হলো একটি কার্যকর, বাস্তবসম্মত ও যুক্তিসংগত বেতন ব্যবস্থা প্রণয়ন করা।’

পে-স্কেলের সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে মূল বেতনভোগী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। পেনশনভোগীসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের যুক্ত করলে এই সংখ্যা প্রায় ২০ লাখের কাছাকাছি পৌঁছায়। দেশে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই নতুন পে-স্কেল নিয়ে কাজ চলছে। ’

এএইচ/এএম