Dhaka Mail Logo

আইন-আদালত

কাবিননামায় আগের বিয়ে ও সন্তানের তথ্য যুক্ত করতে আইনি নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম

বিয়ের নিবন্ধনে ব্যবহৃত কাবিননামায় বর ও কনের পূর্ববর্তী বিয়ে, বিদ্যমান বিয়ে এবং সন্তানদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে এই নোটিশ পাঠান।

নোটিশে বলা হয়, বর্তমানে প্রচলিত মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালার ১৬০১ নম্বর ফরম বা ‘ঘ’ ফরমটি অসম্পূর্ণ। এতে বর বা কনের আগের বিয়ের বিস্তারিত তথ্য, তালাক নিবন্ধনের তারিখ কিংবা বিদ্যমান সন্তানদের ভরণপোষণ ও অভিভাবকত্বের দায়-দায়িত্ব উল্লেখ করার কোনো ঘর নেই।

আইনজীবী ইশরাত হাসান  বলেন, ‘তথ্যের এই অসম্পূর্ণতার সুযোগ নিয়ে অনেকেই আগের বিয়ে বা পরিবারের তথ্য গোপন করে নতুন বিয়ে করছেন। এতে পরবর্তী সময়ে আইনি জটিলতা তৈরি হচ্ছে এবং নতুন জীবনসঙ্গী প্রতারিত হচ্ছেন।’

নোটিশে কাবিননামা সংশোধন করে বর ও কনে উভয়ের জন্য আগের বিয়ের তারিখ, স্থান, নিবন্ধনের তথ্য এবং বিবাহবিচ্ছেদের পদ্ধতি উল্লেখ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া বিদ্যমান সন্তান থাকলে তাদের আইনি দায় ও ভরণপোষণ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশেরও দাবি জানানো হয়।

নোটিশে আরও বলা হয়, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬ ধারা অনুযায়ী, বিদ্যমান বিয়ে থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সালিশি পরিষদের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ওই অনুমতির নম্বর ও তারিখ কাবিননামায় যুক্ত করার দাবিও তোলা হয়েছে।

বিয়ের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন এবং তালাকের নথিপত্র যাচাই বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে নোটিশে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেওয়া হাইকোর্টের একটি রায়ের উদ্ধৃতি দিয়ে নোটিশে বলা হয়, আদালত বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটাল করার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে মূল ফরম বা কাবিননামায় প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘর না থাকলে ডিজিটাল ব্যবস্থা কোনো সুফল আনবে না।

নোটিশে বলা হয়, বর্তমান ফরমে তথ্য গোপনের সুযোগ থাকায় তা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও মর্যাদার অধিকারের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট করা হবে বলেও জানান আইনজীবী।

আরএনবি/এএম