Dhaka Mail Logo

জাতীয়

ফখরুল পারলেও নিজেকে ভোট দিতে পারবেন না কর্নেল অলি!

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম

প্রায় তিন যুগ পর এবার রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের লড়াই হতে যাচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় কোনো প্রার্থীরই নিজেকে ভোট দেওয়ার সুযোগ হয়নি। তবে এবার সেই সুযোগ পাচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি নিজেই নিজেকে ভোট দিতে পারবেন। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা বীরবিক্রম কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রার্থী হলেও নিজেকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে ৩৪৯ জনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকায় সংসদ সদস্য হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হলেও তিনি ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে মির্জা ফখরুলকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। এরপর তার সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা করা হলে সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই আসনে উপনির্বাচন হবে।

অন্যদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট তাকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেছে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার কেবল সংসদ সদস্যদের থাকায় প্রার্থী হয়েও নিজেকে ভোট দিতে পারবেন না অলি আহমদ।

বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীই যে জিতবেন, তা প্রায় নিশ্চিত। তবু বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ভোটে নামানো হয়েছে দলটিরই একসময়ের ঘরের লোক, জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর বীরবিক্রম কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য তাকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন সংসদ সদস্যদের ভোটে। বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। বিপরীতে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ১১-দলীয় ঐক্যের সদস্য সংখ্যা ৯০।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও যোগ্যতা

সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন। একই অনুচ্ছেদের (৪) দফা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন না যদি তিনি ৩৫ বছরের কম বয়সী হন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হন বা আগে সংবিধানের অধীনে অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকেন।

যেভাবে হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘নির্বাচনি কর্তা’ হিসেবে নির্বাচন পরিচালনা করবেন। এ জন্য জাতীয় সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নির্বাচনি কর্তা সভাপতিত্ব করবেন।

সংসদের অধিবেশন চলাকালে নির্বাচন প্রয়োজন হলে ভোটগ্রহণের অন্তত সাত দিন আগে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে ভোটের সময়সূচি নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন। সংসদের অধিবেশন না থাকলে ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণের ক্ষেত্রে অন্তত সাত দিন আগে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংসদের বৈঠক আহ্বান করা হবে।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কে কখন রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন

১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপতি হন বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদ। এরপর ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রপতি করে একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে। তবে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে মাত্র আট মাসের মাথায় তাকে পদত্যাগ করতে হয়। পরে রাষ্ট্রপতি হন ইয়াজউদ্দিন আহমদ।

২০০৬ সালের রাজনৈতিক সংকটের সময় ইয়াজউদ্দিন আহমদ নিজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন। এরপর দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসে।

২০০৮ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের নির্বাচনী বিজয়ের পর রাষ্ট্রপতি হন জিল্লুর রহমান। ২০১৩ সালে তার মৃত্যুর পর প্রথমে ভারপ্রাপ্ত এবং পরে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ আবদুল হামিদ। প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। ২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল তার মেয়াদ শেষ হয়। সংবিধান অনুযায়ী একজন ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন না। এরপর ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। পরে তার পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি অসুস্থতা দেখিযে পদত্যাগ করলে ৬ আগস্ট শূন্য পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। বিএনপি ও সমমনাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ ভোটে রয়েছেন।

এমআর