নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
৩৫ বছর পর আবারও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাষ্ট্রপতি পদে। যেখানে বিগত কয়েকবার নির্বাচন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় কোনো রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নিজেকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। তবে এবার বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেই নিজেকে ভোট দেবেন।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩৪৯ জনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন সংসদ সদস্য হওয়ায় তার নামও ভোটার তালিকায় রয়েছে। সে হিসাবে তিনি এ নির্বাচন ভোট প্রদান করতে পারবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি নির্বাচতি হলে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করবেন এরপর সংসদ সচিবালয়ে তার সংসদীয় আসন শূণ্য ঘোষণা করার ৯০ দিনের মধ্যে সেই আসনে আমরা উপনির্বাচন আয়োজন করব।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও যোগ্যতা
সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন। একই অনুচ্ছেদের (৪) দফা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন না যদি তিনি ৩৫ বছরের কম বয়সী হন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হন বা আগে সংবিধানের অধীনে অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকেন।
রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ
সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর মেয়াদে পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন। তবে মেয়াদ শেষ হলেও উত্তরাধিকারী দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকবেন। কোনো ব্যক্তি একাদিক্রমে বা ভিন্নভাবে—দুই মেয়াদের বেশি রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না। স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য নন এবং কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তার সংসদীয় আসন শূন্য হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘নির্বাচনি কর্তা’ হিসেবে নির্বাচন পরিচালনা করবেন। এ জন্য জাতীয় সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নির্বাচনি কর্তা সভাপতিত্ব করবেন।
সংসদের অধিবেশন চলাকালে নির্বাচন প্রয়োজন হলে ভোটগ্রহণের অন্তত সাত দিন আগে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে ভোটের সময়সূচি নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন। সংসদের অধিবেশন না থাকলে ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণের ক্ষেত্রে অন্তত সাত দিন আগে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংসদের বৈঠক আহ্বান করা হবে।
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যের প্রস্তাবক ও একজন সংসদ সদস্যের সমর্থকের স্বাক্ষর থাকতে হবে। পাশাপাশি মনোনীত প্রার্থীর সম্মতিসূচক একটি বিবৃতিও জমা দিতে হবে। এই নির্বাচনে সংসদ সদস্যরাই ভোটার হবেন এবং কমিশন ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে নির্ধারিত দিনে সংসদের বৈঠকে দুপুর ১২টার পর ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ ও ভোট গণনা উভয়ই প্রকাশ্যে হবে। সর্বোচ্চ ভোট একাধিক প্রার্থী পেলে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করবেন নির্বাচন কমিশনার। ফল ঘোষণার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কার আমলে কে রাষ্ট্রপতি ছিলেন
১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপতি হন বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদ। এরপর ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রপতি করে একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে। তবে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে মাত্র আট মাসের মাথায় তাকে পদত্যাগ করতে হয়। পরে রাষ্ট্রপতি হন ইয়াজউদ্দিন আহমদ।
২০০৬ সালের রাজনৈতিক সংকটের সময় ইয়াজউদ্দিন আহমদ নিজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন। এরপর দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসে।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের নির্বাচনী বিজয়ের পর রাষ্ট্রপতি হন জিল্লুর রহমান। ২০১৩ সালে তার মৃত্যুর পর প্রথমে ভারপ্রাপ্ত এবং পরে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ আবদুল হামিদ। প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। ২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল তার মেয়াদ শেষ হয়। সংবিধান অনুযায়ী একজন ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন না। এরপর ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। পরে তার পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি অসুস্থতা দেখিযে পদত্যাগ করলে ৬ আগস্ট শূন্য পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। বিএনপি ও সমমনাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ ভোটে রয়েছেন।
এমএইচএইচ/এএস