নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
বিদ্যমান র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
খসড়াটি এখন ভেটিংয়ের জন্য লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে পাঠানো হবে। ভেটিং শেষে এটি বিল আকারে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংসদে বিলটি পাস হলে তা আইনে পরিণত হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রস্তাবিত আইনের আওতায় বিদ্যমান র্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশ বিভাগের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠন করা হবে।
প্রস্তাবিত আইনে এসআরবির কার্যক্রম নিয়ে নাগরিকদের অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ বা ক্ষোভ নিষ্পত্তির জন্য একটি বহুপক্ষীয় অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
এতে এসআরবির সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাশাপাশি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিষয়েও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রস্তাবিত আইনের খসড়া অনুযায়ী, অন্য কোনো আইনে ভিন্ন কিছু থাকলেও এই আইনের অধীনে তল্লাশি, আটক, জব্দকরণ ও গ্রেফতারের ক্ষেত্রে এসআরবির একজন কর্মকর্তা ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।
২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের আমলে পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে র্যাব গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাহিনীটির বিরুদ্ধে কথিত ক্রসফায়ার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।
আরও পড়ুন
র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ বিএনপির
পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব অভিযোগ আরও বিস্তৃত হয়। কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের পর র্যাব এবং বাহিনীটির কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিটি র্যাব বিলুপ্ত করার সুপারিশ করে।
এর ধারাবাহিকতায় র্যাবের পরিবর্তে নতুন কাঠামোয় এসআরবি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রস্তাবিত আইনটি সংসদে পাস হলে র্যাবের পরিবর্তে পুলিশের অধীনে নতুন এই বিশেষায়িত ইউনিটের কার্যক্রমের আইনি ভিত্তি তৈরি হবে।
জেবি