নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
দেশে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক রাতের চাহিদা ও চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইলেকট্রিক রিকশার মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারকে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
তিনি বলেছেন, ‘রাত ১২টার পরও প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকছে, যার বড় অংশই অবৈধ সংযোগে ই-রিকশা চার্জের কারণে তৈরি হচ্ছে।’
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার এবং টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আগে দেশের বিদ্যুতের পিক আওয়ার ছিল সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত। এরপর চাহিদা স্বাভাবিকভাবে কমে যেত। কিন্তু এখন মধ্যরাতেও চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছায়, যা বিদ্যুৎ ব্যবহারের স্বাভাবিক ধারা নয়।’
তিনি বলেন, ‘সারাদিন চলার পর বিপুল সংখ্যক ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ই-রিকশা একযোগে রাতে চার্জে বসানো হয়। এ কারণেই জাতীয় গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।’
ব্যাটারিচালিত এসব যানকে ‘গরিবের টেসলা’ বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘যেসব সংযোগ দিয়ে এসব যানবাহন চার্জ দেওয়া হচ্ছে, তার সিংহভাগই অবৈধ বা অননুমোদিত। এসব সংযোগ চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করতে সরকার কঠোর অভিযান চালাচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাধা ও হামলার মুখে পড়ছেন।’
গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি এবং সীমিত অবকাঠামোর কারণে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সরকার তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে দেশে আরও নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপন এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় বিনিয়োগকারী দলও এফএসআরইউ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং তাদের কাছে দ্রুত আগ্রহপত্র দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছর দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের পরিবর্তে আমদানিনির্ভর নীতির কারণে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। সে সময় প্রয়োজন অনুযায়ী আরও এফএসআরইউ নির্মাণ করা হলে আজকের পরিস্থিতি অনেকটাই এড়ানো যেত।’
এএইচ/এএম