Dhaka Mail Logo

জাতীয়

হাইকোর্টের বিচারপতিদের ‘গবেষণা সহযোগী’ নিয়োগে কমিটি গঠনের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৭ পিএম

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের প্রত্যেক বিচারপতির সহায়তার জন্য ‘গবেষণা সহযোগী’ (রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট) নিয়োগের সুপারিশ প্রণয়নে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আইন ও বিচার বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে এই কমিটি গঠিত হবে। কমিটিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিচারপতি মো. হাবিবুল গণির নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী  শিশির মনির। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী  সাদ্দাম হোসেন। মামলার জট নিরসন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হাইকোর্টের প্রতিটি বিচারপতির জন্য নির্দিষ্ট ‘ল ক্লার্ক-কাম-রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট’ বা রিসার্চ অফিসার নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে এই রিট আবেদনটি করা হয়েছিল।

শুনানিতে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, "বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা মামলার প্রচণ্ড চাপের মধ্যে কাজ করছেন। কিন্তু তাদের সহায়তার জন্য কোনো ডেডিকেটেড রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট বা ল ক্লার্ক নেই। আইনি নজির যাচাই এবং গুণগত রায় প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে এটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা বিচার প্রক্রিয়ার গতিকে মন্থর করছে।"

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বর্তমানে ১১ জন রিসার্চ ও রেফারেন্স অফিসার কর্মরত আছেন। এমনকি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়েও ইউএনডিপি-র সহায়তায় ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। তবে হাইকোর্ট বিভাগে এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা না থাকাকে একটি বৈষম্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর উদাহরণ টেনে রিটে বলা হয়, বিশ্বের অনেক দেশের উচ্চ আদালতে বিচারকদের গবেষণায় সহায়তার জন্য নির্দিষ্ট ল ক্লার্ক নিয়োগের দীর্ঘদিনের চর্চা রয়েছে। বাংলাদেশেও এই মডেল অনুসরণ করলে বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়বে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মেধাবী আইন গ্র্যাজুয়েটদের চুক্তিভিত্তিক অথবা অধস্তন বিচার বিভাগ থেকে কর্মকর্তাদের প্রেষণে এই পদে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে বলে আবেদনে প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর আগে, ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এই বিষয়ে রুল জারি করেছিলেন। সেই সঙ্গে বিচারপতিদের বিদ্যমান গবেষণা সুবিধার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

তবে রুলের চূড়ান্ত শুনানি বিলম্বিত হওয়ায় এবং বিচারপ্রার্থীদের স্বার্থ বিবেচনা করে এই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চাওয়া হয়। আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন  বলেন, "বিচারপতিদের গবেষণায় সহায়তা দেওয়ার জন্য ল ক্লার্ক নিয়োগ এখন সময়ের দাবি। এটি বিচারিক কাজের মানোন্নয়ন এবং মামলার জট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আদালত আমাদের আবেদন বিবেচনা করে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।"

‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন, ২০২১’ এবং ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (ছুটি, পেনশন ও বিশেষাধিকার) আইন, ২০২৩’-এর কিছু বিধানকে চ্যালেঞ্জ করে এই রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়েছিল।

আরএনবি