Dhaka Mail Logo

জাতীয়

অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম

অভিবাসী কর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর সংস্কারের দাবি জানিয়েছে ট্রেড ইউনিয়ন-সিভিল সোসাইটি অ্যাকশন অ্যালায়েন্স (টিসিএসএএ)।

সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক জাতীয় গণমাধ্যম ব্রিফিংয়ে সংগঠনটির ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক শ্রম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ এতে সভাপতিত্ব করেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের মহিলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাসরিন আক্তার দিনা অনুষ্ঠানে ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন।

ট্রেড ইউনিয়ন ও সুশীল সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে প্রণীত ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থার বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি নিরাপদ, ন্যায্য ও অধিকারভিত্তিক শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি ও নীতিগত সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে জোটের প্রতিনিধিরা বলেন, শুধু কতসংখ্যক কর্মী বিদেশে পাঠানো হয়েছে- এটি দিয়ে শ্রম অভিবাসনের সফলতা পরিমাপ করা উচিত নয়। কর্মীরা নিরাপদ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যেতে পারছেন কি না, ন্যায্য নিয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন কি না, কর্মক্ষেত্রে তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হচ্ছে কি না এবং অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ন্যায়বিচার মিলছে কি না- এসব বিষয়কেও সাফল্যের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

ঘোষণাপত্রে সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ, বিশেষ করে ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতিমূলক কাজে নিয়োজিত কর্মীদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নিয়োগ-সংক্রান্ত সিন্ডিকেট ও অনিয়ম, গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারে স্থবিরতা ও অনিশ্চয়তা, দ্বিপক্ষীয় শ্রম ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোর (টিটিসি) কার্যকারিতা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং অভিবাসী কর্মীদের নির্যাতন, হয়রানি ও শোষণের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

জোটের পক্ষ থেকে সাধারণ সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) পরিবর্তে স্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর দ্বিপক্ষীয় শ্রম চুক্তি করার দাবি জানানো হয়েছে। এসব চুক্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া, মজুরি, কর্মপরিবেশ, পেশাগত নিরাপত্তা, শ্রমিকের অধিকার, অভিযোগ ও বিরোধ নিষ্পত্তি এবং যৌথ পর্যবেক্ষণের বিষয়ে উভয় দেশের সুস্পষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়।

এ ছাড়া অভিবাসন ব্যয় কমানো, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, কার্যকর তদারকি জোরদার এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অভিবাসী কর্মীদের জন্য সহজলভ্য ও কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করা কিংবা নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতীতে যে ব্যবসায়িক ও নিয়োগব্যবস্থা অভিবাসী কর্মীদের শোষণ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে, সেই একই ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া কোনো সমাধান হতে পারে না। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন একটি অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কর্মীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি টিটিসিগুলোর অবকাঠামো ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।

অভিবাসন নীতিনির্ধারণে ট্রেড ইউনিয়ন, সুশীল সমাজ, অভিবাসী কর্মীদের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য অংশীজনের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব দাবি তুলে ধরেন জোটের নির্বাহী কমিটির সদস্য শাকিল আখতার চৌধুরী, উপদেষ্টা সৈয়দ সাইফুল হক, বোয়াফ চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দীন খানসহ উপস্থিত অতিথিরা।

জোটের ঘোষণাপত্রটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান, জাতীয় সংসদ সদস্য, কূটনৈতিক মিশন, উন্নয়ন সহযোগী এবং অন্যান্য অংশীজনের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

গণমাধ্যম ব্রিফিংটি জোটের বৃহত্তর সমন্বিত অ্যাডভোকেসি উদ্যোগের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় জেলা পর্যায়ে পরামর্শ সভা, স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং জাতীয় পর্যায়ে সংলাপ আয়োজনের মাধ্যমে শ্রম অভিবাসন বিষয়ে অভিন্ন অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও যৌথ নীতিগত পদক্ষেপ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এম/এমআই