নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি পৃথক রাষ্ট্রে পরিণত করার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ’।
মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।
সমাবেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিকে দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সমাবেশে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামের অবাঙালি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা মূলত মায়ানমার (বার্মা), ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও চীন থেকে মাত্র আড়াইশ বছর আগে বিতাড়িত হয়ে এ অঞ্চলে আশ্রয় গ্রহণ করে।
অন্যদিকে বাঙালিরা হাজার হাজার বছর ধরে বৃহত্তর চট্টগ্রামে বসবাস করে আসছে। ফলে অবাঙালিদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবিকে অন্যায্য, ষড়যন্ত্রমূলক এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।
বক্তারা বলেন, দআইএলও কনভেনশন-১৬৯ এবং ২০০৭ সালের জাতিসংঘ আদিবাসী বিষয়ক ঘোষণাপত্রের আলোকে ‘আদিবাসী’ শব্দটির গুরুত্বর নেতিবাচক তাৎপর্য রয়েছে। যদি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা এই স্বীকৃতি পায়, তবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। যেমন- এর মধ্যে পূর্ব তিমুর, দক্ষিণ সুদান ও জিবুতির মতো পার্বত্য চট্টগ্রামও আলাদা রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমির ওপর বাংলাদেশ সরকারের কর্তৃত্ব হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে।
সমাবেশে আরও অভিযোগ করা হয় যে, পাহাড়ে সক্রিয় সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো পশ্চিমাদের শেখানো ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতির আড়ালে একটি কাল্পনিক ‘স্বাধীন জুম্মাল্যান্ড’ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যার কোনো উল্লেখ ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতেও ছিল না।
দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় দেশপ্রেমিক ও সচেতন নাগরিক সমাজকে এখনই সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। তারা সকল ভেদাভেদ ভুলে দেশীয় দালাল ও বিদেশি ষড়যন্ত্র রুখতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এম/এএইচ