মোস্তফা ইমরুল কায়েস
০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
- রেটিনা সমস্যায় তিনবার অপারেশন
- দুজনের একটি করে চোখ অন্ধ, বাকি দুটি নষ্টের পথে
- অপারেশনে প্রয়োজন দেড় কোটি টাকা
- সকলের কাছে সাহায্য চেয়েছেন শিশুটির বাবা-মা
জমজ দুই ভাইয়ের বয়স মাত্র ২৩ মাস। ভালো করে পৃথিবীটাই দেখা হলো না তাদের। কিন্তু তার আগেই দুজনের একটি করে চোখ চিরতরে অন্ধ হয়ে গেছে। বাকি যে দুটি চোখ ভালো রয়েছে, সেগুলোও নষ্টের পথে। এই মুহূর্তে দ্রুত অপারেশন না করা গেলে তারা চিরতরে অন্ধ হয়ে যাবে।
বলছিলাম রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শনিরআখড়া এলাকার ফুয়াদ ও সাবিহা দম্পতির দুই জমজ শিশু সন্তান সাবিত মো. আদিল ও সাবির মো. আহিলের কথা। তাদের একটি করে চোখ ভালো রয়েছে। আর সেগুলো দিয়ে দেখতে প্রয়োজন হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ পাওয়ারের চশমা, যা সাধারণ কোনো বিষয় নয়।
শিশু দুটির পরিবার জানিয়েছে, বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালে ২০২৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মাত্র ৩২ সপ্তাহে তাদের জন্ম হয়। জন্মের আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছিল, তাদের ওজন ১ হাজার ৯০০ ও ১ হাজার ৭০০ গ্রাম হবে। কিন্তু সিজারের পর জানায়, একজনের ওজন ৯৫০ গ্রাম এবং আরেকজনের ৭৫০ গ্রাম। এ কারণে তাদের এনআইসিইউতে নিতে হবে বলে জানানো হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। এরপর একজনকে ১৯ দিন এবং আরেকজনকে ১৭ দিন সেখানে রাখা হয়।
পরে মাত্র ২৬ দিন বয়সে চোখে আরওপি (ROP) পরীক্ষা করার পর রেটিনার সমস্যা ধরা পড়ে। মূলত এনআইসিইউতে থাকার সময় অতিরিক্ত অক্সিজেন দেওয়ার কারণে এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে তখন চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন। এরপর দেশে দুই দফা এবং ভারতের হায়দ্রাবাদে এক দফা অপারেশন করা হলেও কোনো উন্নতি হয়নি। এখন ভরসা যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা। কিন্তু সেই ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ মেটানোর সামর্থ্য নেই পরিবারটির।

আদিল ও আহিলের মা সাবিহা ইয়াছমিন বলছিলেন, মাত্র ২৬ দিন বয়সে আরওপি (ROP) পরীক্ষা করে আমরা জানতে পারি, ওদের চোখের আরওপি স্টেজ-৫-এ চলে গেছে। ডাক্তার তাদের ইনজেকশন দেন। পরে ইনজেকশনেও কোনো উন্নতি না হওয়ায় লেজার করার কথা থাকলেও তা করা সম্ভব হয়নি। এরপর ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর প্রথমবার ওদের চোখে অপারেশন হয় চক্ষু চিকিৎসক তারেক রেজা আলীর তত্ত্বাবধানে। তখন ওই চিকিৎসক বলেছিলেন, আর কোনো সমস্যা হবে না। এরপর আমরা নিয়মিত ফলোআপে ছিলাম। কিন্তু পরে ফলোআপে গেলে চিকিৎসক বলেন, ওদের রেটিনা আবারও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ যে চোখের রেটিনা সার্জারি করে তিনি জোড়া লাগিয়েছিলেন, সেটিতে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে। ফলে দ্রুত অপারেশন করাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ওই চিকিৎসক অপারেশনের চেষ্টা করেন, কিন্তু প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তা করতে পারেননি। পরে ভারতে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ভারতের হায়দ্রাবাদে এলভি প্রসাদ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরেকটি অপারেশন হয়। তখন সেখানকার চিকিৎসকরা বলেছিলেন, দুই শিশুর একটি করে চোখ স্থিতিশীল রয়েছে। কিন্তু পরে ফলোআপে গেলে তারা জানান, দুই ভাইয়ের একটি করে চোখ অন্ধ হয়ে গেছে। অন্ধ হয়ে যাওয়া একটি চোখের কারণে অন্য চোখটিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যে একটি করে চোখ ৭০ শতাংশ ভালো রয়েছে, সেগুলোও দ্রুত নষ্টের পথে। দ্রুত অপারেশন না করা গেলে আর কোনো দিন পৃথিবীর আলো দেখতে পাবে না তারা।

দুই ভাইয়ের বাকি থাকা চোখ দুটির দৃষ্টি রক্ষায় জরুরি অপারেশনে প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ হবে। পরিবারটির দাবি, এ ধরনের চিকিৎসা ও অপারেশন এশিয়ার কোথাও নেই। একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স হাসপাতালে এ চিকিৎসা ও অপারেশনের সুযোগ রয়েছে।
আদিল ও আহিলের মা সাবিহা ইয়াছমিন কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, সন্তান দুটি হওয়ার সময় খুব আনন্দিত ছিলাম। কিন্তু সেই আনন্দ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। এখন তারা চশমা ছাড়া কোনো কিছু দেখতেও পারে না। কারও সাহায্য ছাড়া চলতে পারে না। চিকিৎসক বলেছেন, দুই ভাইয়ের চোখে দ্রুত অপারেশন করাতে হবে। তা না করাতে পারলে তাদের ভালো থাকা বাকি চোখ দুটিও চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের তিনবার অপারেশন করিয়েছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এখন একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করালেই সমাধান হতে পারে। দ্রুত সেই টাকা জোগাড় করতে হবে। কিন্তু আমাদের তো সেই সামর্থ্য নেই। তাদের বাবা একটি ছোট ওষুধের দোকান চালান। যা জমিজমা ছিল, সবই তো ওদের পেছনে আমরা শেষ করেছি। আর এত টাকা কোথায় পাব, চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছি। এখন আমরা সকলের সহযোগিতা চাই। আমার দুই সন্তানের চোখে আলো ফিরিয়ে দিতে দেশবাসীর কাছে করজোড়ে অনুরোধ রইল—আপনারা একটি টাকা হলেও দেন, তবুও আমার সন্তানদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেন।
জমজ দুই ভাইয়ের চোখের আলো ফেরাতে কেউ সহযোগিতার হাত বাড়াতে চাইলে পরিবারটির এই নম্বরে (০১৬৪১-৩২৩৪৫৫) যোগাযোগ করে সাহায্য পাঠানোর অনুরোধ করেছেন তারা।
এমআইকে/এএস