Dhaka Mail Logo

জাতীয়

কামরাঙ্গীরচরে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। ‘বৃক্ষবৃত্তি ও সবুজ নগর গঠন’ কর্মসূচির আওতায় প্লান্ট স্কলারের উদ্যোগে এ বৃক্ষরোপণ করা হবে।

রোববার (৯ আগস্ট) ডিএসসিসির ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের বড়গ্রাম ব্যাটারিঘাট সড়ক ও বুড়িগঙ্গা নদীসংলগ্ন এলাকায় আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু গাছ লাগালেই হবে না। নদী, খাল, ড্রেন ও রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি সামাজিকভাবে পরিবেশ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদ পৃথিবী উপহার দিতে সবাইকে এ আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার আগ থেকেই পরিবেশ সুরক্ষায় বেশি করে গাছ লাগানোর তাগিদ দিয়ে আসছেন।

আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুন্দরবন যেমন ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগ থেকে উপকূলকে রক্ষা করে, তেমনি সারাদেশে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা হলে তা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার ওপরও গুরুত্ব দেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি জানান, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে আগামী শুষ্ক মৌসুমে বুড়িগঙ্গার নদী চ্যানেল খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ড্রেন ও নদীতে পলিথিন কিংবা বর্জ্য না ফেলতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলারও আহ্বান জানান প্রশাসক।

কামরাঙ্গীরচরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যানবাহন পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় প্রবেশের সুবিধার্থে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় আট লেনের সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। চলতি অর্থবছরে এ প্রকল্পে ২৩৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের ৪৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি নদী রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

এমএইচ/এএস