নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
রাজধানীর কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের বেহাল পরিস্থিতি ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে স্টেডিয়ামের প্রশাসক শফি কামাল স্বপ্নিলকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। একই সঙ্গে স্টেডিয়াম এলাকায় খেলাধুলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসার কথা বলে বরাদ্দ নেওয়া দোকানগুলোতে অটোরিকশার গ্যারেজ পরিচালনা এবং অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগে সব দোকানের চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
রোববার (৯ আগস্ট) আকস্মিকভাবে কমলাপুর স্টেডিয়াম পরিদর্শনে যান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। সরেজমিনে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশের অব্যবস্থাপনা, অপরিচ্ছন্নতা ও অনিয়মের চিত্র দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে স্টেডিয়ামের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধি দল দিয়ে বিস্তারিত পরিদর্শন করানোর কথা জানান আমিনুল হক। পরিদর্শনের পর দ্রুত সংস্কার, মেরামত ও পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করা হবে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি স্টেডিয়ামটির সুষ্ঠু পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নীতিগতভাবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কাছে এটি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রায় দুই মাস আগে আমি এখানে এসেছিলাম। তখন স্টেডিয়ামের ছাদে ২০টি অবৈধ স্থাপনা ছিল। এতদিনে সেগুলো অপসারণ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসকের দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে গত দুই মাসেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার পর তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’
স্টেডিয়ামের ভেতরের পরিবেশ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। আমিনুল হক বলেন, ‘খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুম, ওয়াশরুম ও মিডিয়া বক্সের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। এমনকি সিঁড়ির নিচেও বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে। একটি স্টেডিয়ামের পরিবেশ কখনোই এমন হওয়া উচিত নয়।’
স্টেডিয়ামের বাইরের দোকানগুলোর বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্পোর্টস রিলেটেড ব্যবসার কথা বলে দোকান বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানে অটোরিকশার ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কাজে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎও অপচয় হচ্ছে। সারাদেশ যখন লোডশেডিংয়ের ভোগান্তিতে রয়েছে, তখন ব্যবসার জন্য এভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, স্টেডিয়াম এলাকার যেসব দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর সব চুক্তি বাতিল করা হবে।’
স্টেডিয়ামের অব্যবস্থাপনা দূর করে দ্রুত একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ ও খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
এম/জেবি