নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি—এমন অভিযোগের পর আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তথ্যচিত্রটি প্রদর্শনের পর এ নিয়ে বিতর্ক ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হলে বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) মন্ত্রণালয় এ অবস্থান জানায়।
এর আগে বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা এবং শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উপদেষ্টা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তথ্যচিত্র প্রদর্শন শেষ হওয়ার পরপরই মিলনায়তনের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিবাদ শুরু হয়। শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা দাঁড়িয়ে আপত্তি জানান। তাদের অভিযোগ, তথ্যচিত্রে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকা, ৯ দফা কর্মসূচি, ৩ আগস্ট ঘোষিত এক দফা, আন্দোলনের ধারাবাহিকতা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ঘটনার যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি। এতে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ইতিহাস খণ্ডিত ও অসম্পূর্ণভাবে উপস্থাপিত হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।
একপর্যায়ে পুরো মিলনায়তনে হট্টগোল ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মঞ্চে উঠে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তথ্যচিত্রে কোনো ত্রুটি বা অসম্পূর্ণতা থাকলে তা সংশোধনের আশ্বাস দেন তিনি।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আখতার হোসেনকে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান। আখতার হোসেন জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ইতিহাস সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
এরপর আবার মঞ্চে এসে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী তথ্যচিত্রের অসম্পূর্ণতার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চান। তিনি জানান, শহীদ পরিবার, জুলাই যোদ্ধা, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বসে তথ্যচিত্রটি পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, ধারাবাহিকতা, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং সংশ্লিষ্ট সবার অবদান যথাযথভাবে যুক্ত করে তথ্যচিত্রটি সংশোধন করা হবে। তার এ ঘোষণার পর প্রতিবাদকারীরা শান্ত হন।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর রাতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে তথ্যচিত্রে অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, প্রদর্শিত তথ্যচিত্রটির ভুলত্রুটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুত পরিমার্জন করা হবে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, গবেষক, আন্দোলনের প্রতিনিধি এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধিত সংস্করণটি পুনরায় জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ইতিহাসকে নির্ভুল ও তথ্যভিত্তিকভাবে উপস্থাপনে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, বিদেশি কূটনীতিক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে গোলযোগের ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছে মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তথ্যচিত্রের ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের সমালোচনা করে মন্ত্রণালয়।
আখতার হোসেনও পরে বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ইতিহাস কোনোভাবেই খণ্ডিত বা অসম্পূর্ণভাবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। আন্দোলনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং অংশ নেওয়া সব পক্ষের অবদান যথাযথ গুরুত্বে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
এআর