জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
জুলাইযোদ্ধা আয়াসসহ কয়েকজনের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শান্তা ফারজানা ও তার স্বামী মমিন মেহেদীসহ ছয়জনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেফতার অন্যরা হলেন সংগঠনটির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আতাপ মণ্ডল ও হরিদাস সরকার।
তারা নতুনধারা বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন পরিচালনা করেন। ওই সংগঠনের চেয়ারম্যান শান্তার স্বামী এবং শান্তা ভাইস চেয়ারম্যান।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় তাদের মঙ্গলবার রাতেই গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মামলার বাদী বাবুল সরকার নামে এক ব্যক্তি।
জানা গেছে, এই মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে যা উল্লেখ করা হয়েছে:
এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড, উসকানিমূলক স্লোগান ও মিছিলের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। গতকাল ৪ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে শাহবাগ থানাধীন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আরও বলা হয়, বাদী ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)-এর কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নুর মোহাম্মদ আয়াসসহ জুলাই আন্দোলনের কয়েকজন সদস্য প্রতিবাদ জানালে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, এসএস পাইপ, চেয়ার ও হকিস্টিক নিয়ে হামলা চালান। এতে আয়াসসহ কয়েকজন আহত হন। হামলায় আয়াস গুরুতর আহত হন এবং তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নতুনধারা বাংলাদেশের শান্তা ও তার স্বামী মিলে একটি প্রোগ্রাম করার চেষ্টা করলে সেখানে বাধা দেন আয়াসসহ তার সহযোদ্ধারা। এ সময় সংখ্যায় কম থাকায় তাদের ওপর হামলা চালায় শান্তার লোকজন। এ সময় আয়াসকে মাটিতে ফেলে শান্তা ফারজানা একটি স্টিলের লাঠি দিয়ে মারছেন—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, আরেকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শান্তার লোকজন আয়াসসহ অন্যদের বেধড়ক মারধর করছে। পরে আয়াসকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে সেখানে গিয়ে আবারও হামলা চালায় শান্তা ও তার স্বামীর লোকজন। সেখানে হামলা চালানোর সময় হাসপাতালের লোকজন তাদের প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। এরপর রাতে মামলা হলে শান্তা ফারজানাসহ ছয়জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
এমআইকে/এআর