নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে দুটি নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করেছে সরকার। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা সংস্থার উদ্ভাবিত সাইবার ঘটনা প্রতিবেদন ব্যবস্থা এবং জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়ন ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কৌশল ২০২৬-২০৩০-এর প্রাথমিক খসড়াও উপস্থাপন করা হয়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্ল্যাটফর্ম দুটি উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, সাইবার ঘটনা প্রতিবেদন ব্যবস্থা এবং জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। একই সঙ্গে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কৌশল ২০২৬-২০৩০ আগামী দিনের সাইবার নিরাপত্তা কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা দেবে।
তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে সাইবার হামলা, তথ্য চুরি, অনলাইন প্রতারণা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকিও বাড়ছে। নতুন সাইবার ঘটনা প্রতিবেদন ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিক ও প্রতিষ্ঠান সহজেই সাইবার-সংক্রান্ত ঘটনার অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং দ্রুত প্রতিকার পাবেন। অন্যদিকে, জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়ন ব্যবস্থা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা মূল্যায়ন ও উন্নয়নে সহায়তা করবে।
ফকির মাহবুব আনাম আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, অপপ্রচার ও অনলাইন হয়রানি রোধে সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ, স্থিতিশীল ও আস্থাশীল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইন পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের নতুন যাত্রা শুরু করেছে। তবে আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। ডিজিটাল অর্থনীতি ও নগদহীন লেনদেনভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; নাগরিক, বেসরকারি খাত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সমানভাবে দায়িত্ব নিতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচার রোধে সবাইকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং, আর্থিক খাত এবং সরকারি তথ্যভান্ডারের নিরাপত্তা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ভবিষ্যতের সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল গড়ে তোলারও আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সাইবার ঘটনা প্রতিবেদন ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিক, প্রতিষ্ঠান ও অনুমোদিত ব্যবহারকারীরা দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে সাইবার-সংক্রান্ত ঘটনার প্রতিবেদন দিতে পারবেন। প্রতিটি অভিযোগ যাচাই, বিশ্লেষণ, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, পর্যবেক্ষণ এবং নিষ্পত্তির সমন্বিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
অন্যদিকে, জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়ন ব্যবস্থা দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি, তথ্য নিরাপত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা মূল্যায়নের জাতীয় কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। চারটি মূল স্তম্ভ এবং ১৩১টি সূচকের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ থেকে ই পর্যন্ত গ্রেডে মূল্যায়ন করা হবে।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই দুটি প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সাইবার সক্ষমতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় এবং তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণ আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি নিরাপদ, আস্থাশীল ও সহনশীল ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.)-সহ বিভিন্ন অংশীজন এবং আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমআর/এআর