Dhaka Mail Logo

জাতীয়

দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই স্ত্রী-শ্বাশুড়িকে হত্যা করেন শিপন

মোস্তফা ইমরুল কায়েস

০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম

  • একটি বিয়ে অনুষ্ঠানের আগের দিন শরীয়তপুরে গিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া
  • পরদিন ঢাকার বাসায়ও তর্ক, এরপর স্ত্রী ও শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যা
  • হত্যার পর নিজেই থানায় গিয়ে খবর দেন শিপন

রাজধানীর কাঁঠালবাগানে স্ত্রী ও শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হৃদয় হাসান শিপন (২৫) আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাত্রী (২১) বিভিন্ন বিষয়ে ঝগড়ার সময় তার কাছে তালাক চাইতেন। শাশুড়ি ফিরোজা আক্তারও মেয়ের পক্ষ নিয়ে তাকে তালাক দিতে উসকানি দিতেন বলে দাবি করেছেন শিপন।

আদালত সূত্র জানায়, রোববার রাজধানীর কাঁঠালবাগানের আল আমিন মসজিদের পাশে পাঁচতলা ভবনের একটি ফ্ল্যাটে (নম্বর বাসা ৫৫/২) স্ত্রী ফারজানা ও শাশুড়ি ফিরোজাকে কুপিয়ে আহত করেন শিপন। পরে দুজনেরই মৃত্যু হয়। ঘটনার পর নিজেই থানায় গিয়ে হত্যার খবর দেন তিনি।

শিপন পিকআপ চালান। তার আয় দিয়েই সংসার চলত। স্ত্রীকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। ঘটনার দিন তাদের ওই বাসায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। এ জন্য সকালে তারা প্রস্তুতি নেন। এর মধ্যেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও তর্ক শুরু হয়।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে সূত্র জানায়, স্ত্রী ও শাশুড়ির ওপর দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুব্ধ ছিলেন শিপন। স্ত্রী কোনো বিষয়ে মনোমালিন্য হলেই তালাক চাইতেন। শাশুড়ি ফিরোজা আক্তার মেয়ের পক্ষ নিয়ে সেই বিষয়টিকে সমর্থন করতেন। এ নিয়ে তাদের সংসারে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। ঘটনার দিন তর্কের একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ঘরে থাকা সবজি কাটার ছুরি দিয়ে প্রথমে স্ত্রী এবং পরে শাশুড়িকে কুপিয়ে আহত করেন শিপন।

এর আগে থানা-পুলিশ ও নিহত ফারজানার বাবা ফারুক হোসেন জানিয়েছিলেন, ফারজানার বাবার বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায়। গত শুক্রবারের আগের শুক্রবার ফারজানা ও তার মা ফিরোজা গ্রামের বাড়িতে যান। গত শুক্রবার ছিল ফারুক হোসেনের ভাতিজার বিয়ের অনুষ্ঠান। বিয়ের আগের দিন শিপনও সেখানে যান।

বিয়ের দিন সকালে কোনো একটি বিষয় নিয়ে ফারজানা ও শিপনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর জেরে বিয়ের অনুষ্ঠানে খাওয়া-দাওয়া না করেই শিপন ঢাকায় ফিরে আসেন।

রোববার সকালে ফারজানার বাবা ফারুক হোসেন বাসার বাইরে ছিলেন। পরে ছেলের ফোন পেয়ে তিনি বাসায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে মেয়েকে ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পাশে তাঁর স্ত্রী ফিরোজা মুমূর্ষু অবস্থায় কাতরাচ্ছিলেন। পরে ফারজানার মরদেহ বাসায় রেখেই ফিরোজাকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান ফারুক। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ফিরোজাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে আশিক ঢাকা মেইলকে বলেন, এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে ফারুক হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে শিপনকে। তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরে আদালতে তোলা হলে শিপন হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

এমআইকে/এআর