Dhaka Mail Logo

জাতীয়

‘স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়তে মানুষের খাদ্য সংস্কৃতি গুরুত্ব দিতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

দেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাসের পেছনে কী কী বিষয় কাজ করে, কেন মানুষ নির্দিষ্ট ধরনের খাবার বেছে নেয় এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে কীভাবে আরও কার্যকর পুষ্টি কর্মসূচি নেওয়া যায়- এসব বিষয়ে রাজধানী ঢাকায় একটি বিশেষজ্ঞ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীতে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইআরআরআই) আয়োজিত ‘এক্সপার্ট এলিসিটেশন ওয়ার্কশপ’-এ সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, নাগরিক সমাজ, খাদ্য ও রেস্তোরাঁ খাত, যুব সংগঠন এবং সিজিআইএআরের প্রতিনিধিসহ ৩৯ জন বিশেষজ্ঞ অংশ নেন। কর্মশালার লক্ষ্য ছিল মানুষের খাদ্য নির্বাচনের পেছনের সাংস্কৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আচরণগত কারণগুলো চিহ্নিত করে স্বাস্থ্যকর ও টেকসই খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার জন্য কার্যকর পুষ্টি উদ্যোগের পথ খুঁজে বের করা।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণির মানুষের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস, সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব, খাদ্যের দাম ও ক্রয়ক্ষমতা, মৌসুমি খাদ্য প্রাপ্যতা, বাজার ও খাদ্য পরিবেশ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা এবং সম্ভাব্য পুষ্টি কার্যক্রম নিয়ে মতামত দেন। পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার, পরিবর্তিত খাদ্য সংস্কৃতি এবং বর্তমান খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে ধারণা দিতে যুব সংগঠনের প্রতিনিধি, খাদ্য ইতিহাসবিদ ও ফুড ভ্লগাররাও আলোচনায় অংশ নেন।

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইআরআরআইয়ের প্রকল্প প্রধান ড. অরিন্দম সমাদ্দার বলেন, মানুষের খাদ্যাভ্যাস উন্নয়নে শুধু খাদ্য উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, মানুষ কেন একটি নির্দিষ্ট খাবার বেছে নেয়, সেটিও বুঝতে হবে। কারণ খাদ্য নির্বাচন সংস্কৃতি, প্রাপ্যতা, মূল্য, সহজলভ্যতা এবং ব্যক্তিগত পছন্দের মতো নানা বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা করা হলে পুষ্টি কর্মসূচি আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, মানুষের খাদ্যাভ্যাস যদি সংস্কৃতিনির্ভর হয়, তাহলে পুষ্টি হস্তক্ষেপও সেই সংস্কৃতিকে বিবেচনায় নিয়েই পরিকল্পনা করতে হবে।

আইআরআরআই বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. হুমনাথ ভাণ্ডারি বলেন, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি এখন আইআরআরআইয়ের নতুন কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ধানভিত্তিক খাদ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে শুধু খাদ্যনিরাপত্তা নয়, উন্নত পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করাও প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘গ্যাস্ট্রোনমিক সিস্টেমস রিসার্চ (জিএসআর)’ কাঠামো জটিল পুষ্টি সমস্যার সমাধানে একটি সহজ, কার্যকর ও টেকসই পদ্ধতি। মানুষের বাস্তব খাদ্যাভ্যাসকে ভিত্তি করে পরিকল্পনা করা হলে তা স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল দিতে পারে।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক নেটওয়ার্ক লিমিটেডের প্রধান পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান ডরিন বলেন, ডায়াবেটিসসহ খাদ্যাভ্যাসজনিত রোগ প্রতিরোধে মানুষের খাদ্য নির্বাচনের সাংস্কৃতিক কারণগুলো বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং দৈনন্দিন খাদ্যচর্চাকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা করা হলে তা মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এএইচ/এএম