নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
ধূমপান ও তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে পাট অধিদফতরের আওতাধীন সব কার্যালয়কে শতভাগ তামাকমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে প্রতিটি কার্যালয়ের দৃশ্যমান স্থানে ‘নো-স্মোকিং’ সাইনেজ স্থাপন এবং এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সৈয়দ মো. নূরুল বাসির।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পাট অধিদফতরের সভাকক্ষে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধন) ২০২৬ অনুযায়ী পাট অধিদফতরের অফিসগুলোকে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
মহাপরিচালক বলেন, পাট অধিদফতরের অধীনস্থ সব অফিসকে তামাকমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। কর্মস্থলে ধূমপান নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, তামাকের কোনো ইতিবাচক দিক নেই। এটি শুধু ব্যবহারকারীর নয়, পরিবার, সহকর্মী এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ক্ষতিকর। তাই জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
সভায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন এবং তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। হৃদরোগ, ক্যান্সার, স্ট্রোক ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ তামাক ব্যবহার। এছাড়া প্রায় চার কোটি অধূমপায়ী পরোক্ষ ধূমপানের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের ফলে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে একই সময়ে সরকার এ খাত থেকে রাজস্ব পেয়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা।
অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ সব জনসমাগমস্থলে শতভাগ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে অধূমপায়ীরা পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা পাবেন এবং ধূমপায়ীদের মধ্যেও তামাক ছাড়ার প্রবণতা বাড়বে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে অকাল মৃত্যুর অন্যতম কারণ অসংক্রামক রোগ, যার পেছনে তামাক ব্যবহার একটি বড় ঝুঁকি। ধূমপান ত্যাগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয় এবং কয়েক বছরের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।
তাই ধূমপায়ীদের তামাক ছাড়তে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী।
এমএইচ/এএইচ