Dhaka Mail Logo

জাতীয়

ছিনতাইকারীদের আখড়া উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর 

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৫ পিএম

‎* দিনের আলোতেই প্রকাশ্যে ঘটছে ছিনতাই
* মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়ায় চক্রের সদস্যরা
* শিশু থেকে বৃদ্ধা রেহাই পাচ্ছেনা কেউ

রাজধানীর উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরকে ঘিরে ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন সড়ক, গলি এবং তুলনামূলক নির্জন এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। 

প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায় ভুক্তভোগীরা ভয়ে থানায় কেউ অভিযোগ দিতে সাহস পাচ্ছে না।  পুলিশ বলছে, ছিনতাইয়ের শিকার ভুক্তভোগীরা থানায় কোনও অভিযোগ দিচ্ছেনা। যার ফলে, ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছেনা।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকা, নির্জন পরিবেশ এবং টহল পুলিশের উপস্থিতি কম থাকায় অপরাধীরা এসব স্থানকে টার্গেট করছে। 

বিশেষ করে, স্কুল-কলেজ ছুটি শেষে বাসায় ফেরাদের টার্গেট করছে এ চক্রের সদস্যরা। এছাড়াও,অফিস শেষে বাসায় ফেরা চাকরিজীবী কিংবা ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের শিকার হচ্ছে। 

ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা মোটরসাইকেল কিংবা হেঁটে চলাচলের মাঝেই সুযোগ বুঝে পথচারীদের মোবাইল ফোন, টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিচ্ছে।

‎বাসার সামনে ছিনতাইয়ের শিকার

‎উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা দেওয়ান রাশেদ উদ্দিন ঢাকা মেইলকে বলেন, আমার মেয়ে উত্তরায় একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে। গতকাল সকালে আমার মেয়ের স্কুল শেষে আমার স্ত্রী তাকে নিয়ে রিকশায় করে বাসায় রওনা হয়। 

এ সময় স্কুলের সামনে থেকেই একটি মোটরসাইকেল তাদেরকে টার্গেট করে বাসার সামনে আসে। আমার বাসা উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর রোডে। বাসার সামনে রিকশা দাঁড়াতেই মোটরসাইকেলে দুইজন ব্যক্তির মধ্যে একজন নেমে আমার মেয়ের গলার চেইনটা টান দিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় তারা হেলমেট পড়া ছিলো।

তিনি আরও বলেন, ভাগ্য ভালো আমার মেয়ের কিংবা স্ত্রীর বড় ধরনের কোনও সমস্যা হয়নি। যেভাবে গলা থেকে টান দিয়ে চেইন নিয়ে গেছে হয়তো বড় ধরনের কোনও দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। তবে আমার মেয়ে খুব ভয় পেয়েছে। এ ঘটনায় আমি থানায় কোনও অভিযোগ দেইনি। অভিযোগ দিলে হয়তো ছিনতাইকারীরা আমার ঠিকানা পেয়ে আমার বাসায় টার্গেট করে চলে আসতে পারে।

‎এদিকে, একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি রিকশার পিছনে পিছন মোটরসাইকেল আসছে। রিকশাটি বাড়ির সামনে দাঁড়ানো মাত্রই মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহীর মধ্যে পিছন থেকে একজন দ্রুত গতিতে নেমে আসে। 

তার পরনে জিন্স প্যান্ট ও কালো টি শার্ট এবং মাথায় কালো হেলমেট পরিহিত। তিনি দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল থেকে নেমে রিকশার পেছন থেকে গিয়ে গলার চেইন টান দিয়ে আবার মোটরসাইকেলে করে দ্রুত চলে যায়।

‎একই সেক্টরের বাসিন্দা নুরুজ্জামান মিয়া ঢাকা মেইলকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়লেও অনেক ভুক্তভোগী হয়রানির আশঙ্কায় থানায় অভিযোগ করেন না। ফলে অনেক ঘটনা আঁড়ালেই থেকে যাচ্ছে। কিন্তু এ এলাকাজুড়ে কিশোর ও যুবকদের আড্ডা থাকে। যার ফলে, কে ভালো কে ছিনতাইকারী তা বোঝা যায় না। এ কারণে যে কোনও সময় যে কোনও ব্যক্তি ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছে।

‎এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, উত্তরা এলাকায় সংঘটিত ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত চক্রগুলোকে শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের কাজ চলছে। পাশাপাশি নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে।

‎এ বিষয়ে উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোর্শেদ আলম বলেন, এমন ঘটনায় আমাদের কাছে কোনও অভিযোগ আসেনি। 

যার ফলে, আমরা এ বিষয়টি জানিনা। যেহেতু আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি, আমরা ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠিয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।

‎একেএস/এআরএম