Dhaka Mail Logo

জাতীয়

ঝুম বৃষ্টিতে দিন শুরু রাজধানীবাসীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩২ এএম

ভোর থেকেই ঘন কালো মেঘে ছেয়ে ছিল রাজধানীর আকাশ। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ নেমে আসে ঝুম বৃষ্টি। অল্প সময়েই ভিজে যায় সড়ক, ফুটপাত আর ব্যস্ত নগরজীবন। বর্ষার এই বৃষ্টি গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও অফিসগামী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য দিনের শুরুটা হয়ে ওঠে দুর্ভোগের। অনেকেই ভিজেই গন্তব্যের পথে রওনা হন, আবার কেউ আশ্রয় নেন দোকানের ছাউনি কিংবা ফুটওভার ব্রিজের নিচে।

সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসের শুরুতেই রামপুরা, বাড্ডা, নতুনবাজারসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টি খবর পাওয়া যায়। তবে একই সময়ে ঢাকার সব এলাকায় বৃষ্টি হয়নি। কোথাও ঝুম বৃষ্টি হলেও কোথাও ছিল শুষ্ক আবহাওয়া।

আকস্মিক এ বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন ছাতা ছাড়া বের হওয়া অফিসগামী, চাকরিজীবী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে অনেকেই ভিজেই পথ চলতে বাধ্য হন। আবার বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় অনেকে আশ্রয় নেন ফুটওভার ব্রিজ কিংবা দোকানের সামনে।

গণপরিবহনেও ছিল ভোগান্তির চিত্র। জানালার পাশে বসা অনেক যাত্রী বৃষ্টির পানিতে ভিজে যান। বিশেষ করে যেসব বাসের জানালার কাচ ভাঙা ছিল বা ঠিকমতো বন্ধ করা যাচ্ছিল না, সেসব বাসে বৃষ্টির পানি ঢুকে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

ছাতা সঙ্গে থাকলেও পুরোপুরি স্বস্তি মেলেনি অনেকের। ছাতা মাথা ও শরীরের ওপরের অংশ রক্ষা করলেও হাঁটু থেকে নিচের অংশ, জুতা ও প্যান্ট ভিজে যায়।

মধ্যবাড্ডা এলাকায় রাস্তায় থাকা অনেক পথচারীর জামা-কাপড় ভিজে যেতে দেখা গেছে। বৃষ্টির মধ্যেই তারা রওনা দেন গন্তব্যে। আবার অনেককে বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।

বৃষ্টির সময় মধ্যবাড্ডায় রাস্তার পাশের লুৎফুন টাওয়ারের নিচে আশ্রয় নেন অনেক পথচারী। কেউ বৃষ্টি থামার অপেক্ষায়, আবার কেউ গণপরিবহনের আশায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদেরই একজন রাশেদুল ইসলাম। পল্টনে যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।

ভিক্টর পরিবহনের একটি বাস আসতেই বৃষ্টির মধ্যে দ্রুত উঠে পড়েন গাড়িতে। বাসে ফাঁকা আসন পেয়ে জানালার পাশে বসেন। কিন্তু জানালার কাচ ভাঙা থাকায় বাইরে থেকে ঢুকে পড়া বৃষ্টির পানিতে কিছুক্ষণের মধ্যেই তার এক পাশ ভিজে যায়। অফিসে পৌঁছানোর তাড়া থাকায় সেই অস্বস্তি নিয়েই যান তিনি।

রাশেদুল বলেন, ‘অফিসে দেরি হবে বলে বৃষ্টির মধ্যেই বাসে উঠেছি। কিন্তু জানালার কাচ ভাঙা থাকায় বসেও স্বস্তি পাইনি। এক পাশ পুরো ভিজে গেছে। বৃষ্টি হলে প্রায়ই এমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’ 

একই বাসের আরেক যাত্রী শরিফুল হাসান। তিনি ভিজে বাসে ওঠেন। শরিফুল বলেন, ছাতা এনেও ভিজে যাওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারলাম না। নিচের অংশ পুরো ভিজে গেছে। তারপরেও কিছুটা ভোগান্তি হলেও গরমের মধ্যে এমন বৃষ্টিতে স্বস্তি পেয়েছি।

এমআর