নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
হুতি বিদ্রোহীদের প্রতিরোধে গঠিত সৌদি নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটে অংশগ্রহণ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, এই জোটে যোগ দেওয়ার অর্থ এই নয় যে, বাংলাদেশ ইরানকে আক্রমণ করতে যাচ্ছে।
রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, হুথিদেরকে মোকাবেলা করতে যে ধরনের সহযোগিতা লাগবে, বাংলাদেশের সে রিসোর্সেস রয়েছে, সে অনুযায়ী আমরা সেটা দেব। মূলত এটা সেখানে হুথি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য। ওইদিকে, আমরা কিন্তু ইরানের সাথেও কথা বলেছি। সুতরাং এটা এমন নয় যে, ইরানকে হামলা করতে হবে।
এই জোটে যোগ দেওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, মূল বিষয়টা হলো সৌদির সঙ্গে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সৌদির সঙ্গে সম্পর্কটা শুধু তীর্থযাত্রা, ওমরাহ বা হজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটিকে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবেন না, ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ক হবে একটি কৌশলগত সম্পর্ক। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সম্পর্ক হবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরব দুটি পবিত্র মসজিদ মক্কা ও মদিনার রক্ষক। তাই এখানে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। যেকোনো সময় সৌদি আরবের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তারা যদি কোনো সহযোগিতা চায়, এই দৃঢ় আত্মিক সম্পর্ক থেকে এবং নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে সবসময় সৌদি আরবকে সহায়তার জন্য সাড়া দেবে।
উপদেষ্টা বলেন, এটি মূলত হুথিদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য। অন্যদিকে আমরা ইরানের সঙ্গে তো কথাবার্তা বলছি, তাই এটিকে কোনোভাবেই ইরানকে বাদ দেওয়া বা আঘাত করার কিছু হিসেবে দেখার কারণ নেই।
সম্প্রতি ১৩টি দেশকে সঙ্গে নিয়ে সামরিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। যেখানে পাকিস্তান ও তুরস্কের পাশাপাশি রয়েছে বাংলাদেশের নামও।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ। অন্য বিকল্প রুট লোহিত সাগরেও মাঝেমধ্যে হামলা চালাচ্ছে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। এমন অস্থির পরিস্থিতিতে বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় গঠিত নৌ সামরিক জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের তাৎপর্য নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সহযোগিতার ইতিহাস নতুন নয়। ১৯৯০ সালেও উপসাগরীয় যুদ্ধে সৌদি আরবের সুরক্ষায় সহযোগিতা করতে সেদেশে সেনা পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর যুদ্ধ শেষে কুয়েত পুনর্গঠনেও লজিস্টিক ও সেবামূলক কাজ করেছিল বাংলাদেশের সেনারা।
১৯৯০ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধে বাংলাদেশের হয়ে অংশ নিয়েছিলেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ। সৌদি আরবের নেতৃত্বে বহুজাতিক সামুদ্রিক সামরিক জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেখছেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। ২৫ লাখের বেশি বাংলাদেশি সেখানে কাজ করেন। ফলে সৌদির কোনো কৌশলগত অনুরোধে সাড়া না দিলে ভিসা, কোটা বা শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। সৌদির সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অনুরোধে সাড়া দিতে হচ্ছে।
জেবি