Dhaka Mail Logo

জাতীয়

বেনজীরের জামিন বাতিলে দুবাইয়ে ল' ফার্ম নিয়োগ করেছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাতে গ্রেফতারের পর দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশের পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ। দেশে দুর্নীতিসহ বেশ কিছু মামলা চলমান থাকায় গ্রেফতারের পর থেকেই তাকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা করছে সরকার। জামিনে মুক্তি পেয়ে যাওয়ায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই অবস্থায় তার জামিন বাতিলে দুবাইয়ে বাংলাদেশ সরকার নিয়োগকৃত ল’ ফার্ম কাজ করছে।  

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমির এক অনুষ্ঠানের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা জানান।

বেনজীর আহমেদ জামিনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এখন শুনলাম স্টেজে বসে। সাথে সাথেই আমি হোম সেক্রেটারির সাথে কথা বলেছি। হোম সেক্রেটারি দুবাইয়ে আমাদের যে ইউএই অ্যাম্বাসেডার তার সাথে কথা বলেছেন। আমরা কয়েক দিন আগেই ল’ ফার্ম নিয়োগ করেছি, এই বিষয়টার জন্য শুধুমাত্র। তাকে ইন্সট্রাকশন দেওয়া হয়েছে যেন বেইল ক্যানসেলেশনের জন্য সে পারসু করবে।’

বেনজীরের জামিন বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি খবর পেয়েছি তাকে অন কন্ডিশনে এখানে তার ইউএই লিভ না করার শর্তে বেইল দিয়েছে। কী কী শর্ত সেটা আমি সার্টিফাইড কপিটা জোগাড় করতে বলেছি এবং আমাদের যে ল ফার্ম রয়েছে তাদেরকে আমরা ইন্সট্রাকশন দিয়েছি যেন এই বেইল ক্যানসেলেশনের জন্য তারা পারসু করে।’

আরও পড়ুন

যোগাযোগ অব্যাহত, বেনজীরকে ফেরানোর ব্যাপারে আশাবাদী সরকার

বাংলাদেশ সরকার এখন কোন আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বন করবে এমন প্রশ্নে মন্ত্রী তার জামিন বাতিল করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তারা আইনানুগভাবে গিয়েছে আমরা ল ফার্ম নিয়োগ করেছি। আমাদের চেষ্টা আমরা করছি এবং আমরা আশা করছি এগুলা আমরা বেইল ক্যানসেল করতে পারবো এবং দ্রুততম সময়ে তাকে ফেরত নিতে পারবো।

Benojir3
বেনজীরের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা চলমান। ছবি: সংগৃহীত

এদিকে ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও বেনজীর আহমেদের জামিনের বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার সব চেষ্টাই করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আমিরাত কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য ও নথিপত্র জানতে চেয়েছিল। দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেই কাঙ্ক্ষিত তথ্যগুলো ইতিমধ্যে তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বেনজীর

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে শামা ওবায়েদ বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজস্ব আইন অনুযায়ী তারা এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তথ্য আদান-প্রদান ও আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

আইজিপি হিসেবে বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখনই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে।

জেবি