নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ ভিওআইপি, জিএসএম গেটওয়ে ডিভাইসসহ অনলাইন জুয়ার একটি প্রতারক চক্রের চারজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
পুলিশ বলছে, চক্রের প্রধান চীনা নাগরিক ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি শিক্ষকতার নামে অনলাইন জুয়ার ব্যবসা চালাতেন।
রোববার (২ আগস্ট) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- ঝর্না চাকমা জিয়ানা, লিউ হুই জাং, ওয়ে ইউজি ও শে ই রান।
ডিবিপ্রধান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১ আগস্ট) রাতে ডিবি সাইবার ক্রাইম বিভাগের একটি চৌকস দল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ছয়তলা ভবনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৪টি ল্যাপটপ, ১৬টি স্মার্টফোন, বিভিন্ন অপারেটরের ৬ হাজারের বেশি অ্যাক্টিভ সিমকার্ড এবং ২০টি গেটওয়ে মেশিন জব্দ করা হয়। একইসঙ্গে সেখান থেকে ২৬ বোতল বিদেশি মদ এবং নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা জব্দ করা হয়।
তিনি জানান, ‘ঝর্ণা নামের এক উপজাতী নারী ওই পুরো ভবনটি ভাড়া নিয়ে এর চতুর্থ ও পঞ্চম তলা চীনা নাগরিকদের ভাড়া দেন। চাইনিজ নাগরিকরা সেখানে অবস্থান করে উন্নত প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা এবং অনলাইন জুয়ার সাম্রাজ্য চালিয়ে আসছিল।’
ডিবিপ্রধান আরও জানান, চক্রটি সাধারণ মানুষের মোবাইলে বিভিন্ন লোভনীয় মেসেজ পাঠাত। মেসেজে নতুন অফার চাকরির সুযোগ কিংবা বাড়তি আয়ের লিংক দিয়ে প্রলুব্ধ করা হতো। ভুক্তভোগীরা ওই লিংকে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে যেতেন। আইনি নজরদারি এড়াতে চক্রটি অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তি ব্যবহার করত। তারা একটি মোবাইলের সঙ্গে বাহ্যিক একাধিক স্লট যুক্ত করে একসঙ্গে ১২টি সিম পরিচালনা করত। ফলে ভুক্তভোগীরা টাকা খুইয়ে অভিযোগ করলেও প্রযুক্তির জটিলতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ডিভাইসের আইএমইআই নম্বর শনাক্ত করা সম্ভব হতো না।
তিনি আরও বলেন, গ্রেফতার হওয়া চীনা নাগরিক বাংলাদেশে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় এসেছিলেন। তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি শিক্ষক হিসেবে কাজ করার কথা বলতেন। তবে এ বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।
গ্রেফতারকৃত অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন ডিবিপ্রধান।
একেএস/এএইচ