নিজস্ব প্রতিবেদক
০১ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা মূলত দলীয় নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করার একটি প্রচেষ্টা এবং এটি একটি ‘রাজনৈতিক অবস্থান প্রদর্শনের কৌশল’ (পলিটিক্যাল পোস্টারিং)।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) মিলনায়তনে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ছায়া সংসদ বিতর্কে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ব্যক্তিপূজার রাজনীতিকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় ছিল। তবে গণতান্ত্রিক নীতিমালা থেকে সরে গিয়ে দলটি কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়েছিল।
জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই ঘটনার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিকভাবে চূড়ান্ত পরাজয়ের মুখে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরেও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।
তিনি দাবি করেন, গত ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা আত্মগোপনে গেলেও দলটির সমর্থকরা এখনো প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায়ে আওয়ামী লীগের এ দেশে কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই এবং দলটিকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বর দেশে ফেরার কথিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেয়ে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মনোবল চাঙা করার প্রচেষ্টাই বেশি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের দেশত্যাগকে ‘কাপুরুষোচিত আচরণ’ আখ্যা দিয়ে ইশরাক হোসেন অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিভক্তি তৈরি হলে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। জুলাই আন্দোলনের চেতনা সমুন্নত রাখা এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্বৈরাচারবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ঐক্য অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি বলেন, বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের আন্দোলন এবং ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়।
কিরণ অভিযোগ করেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায় থেকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায় এড়াতে পারেন না। তার দাবি, ওই সময় সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ড তার অনুমোদনেই সংঘটিত হয়েছে।
‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরাজয়ের চেয়ে সামাজিক পরাজয় বেশি’—এই প্রস্তাবের ওপর অনুষ্ঠিত ছায়া সংসদ বিতর্কে গণ বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) চ্যাম্পিয়ন হয়।
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোরশেদ, সাংবাদিক আরিফুজ্জামান মামুন, মাইদুর রহমান রুবেল এবং জাকির হোসেন লিটন। পরে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
জেবি