নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম
জুলাই আন্দোলনের সময় মাদারীপুরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপকে সেফহোমে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
তদন্ত সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই মাদারীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালালে তিনজন নিহত হন।
তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপ গ্রেফতার রয়েছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এক দিনের জন্য সেফহোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করেন।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেফতার ২
তবে প্রসিকিউশনের আবেদনের বিরোধিতা করে আসামিপক্ষের আইনজীবী শামীম আল সাইফুল বলেন, আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপ একজন বয়স্ক ব্যক্তি এবং তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হলে তা অধিক উপযুক্ত হতো।
জবাবে প্রসিকিউশন জানায়, আইন অনুযায়ী সেফহোমে জিজ্ঞাসাবাদের সময় একজন সরকারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আসামিপক্ষের আইনজীবীর উপস্থিত থাকার সুযোগ রয়েছে। ফলে স্বাস্থ্যগত বা আইনি জটিলতার আশঙ্কা নেই।
এর আগে সকালে কারাগার থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় গোলাপকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
গত ২৭ এপ্রিল প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য প্রসিকিউশনের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ট্রাইব্যুনাল আগামী ৩০ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট রাজধানীর নাখালপাড়ার একটি বাসা থেকে মাদারীপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন।
শুনানিকালে আদালতে প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্য আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।