Dhaka Mail Logo

জাতীয়

আদাবরে বিএনপি নেতা হত্যা, পারভেজকে অস্ত্র দিয়েছিল সন্ত্রাসী লেদু

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম

চলতি মাসের পহেলা জুলাই রাজধানীর আদাবরের মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকায় নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত আসামি মনোয়ার হোসেন লেদু ওরফে লেদু হাসানকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তাকে গ্রেফতারের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। র‌্যাবের বলছে, বাদশাকে হত্যায় জড়িত মূল অভিযুক্ত পারভেজকে অস্ত্র দিয়েছিল লেদু হাসান।

র‌্যাব সদর দফতর জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুরের বিএনপি নেতাকে হত্যা ছাড়াও মাদক, অস্ত্রসহ ৩৩টি মামলা রয়েছে।

গত ১ জুলাই রাজধানীর আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় জাপান এবং ব্রাজিলের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে মারামারি হয়। সেই মারামারিতে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা ছুরিকাঘাত করলে তিনি হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। এ ঘটনার পর প্রচার করা হয় আওয়ামী লীগের লোকজন পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বাদশাকে হত্যা করেছে। কিন্তু এই হত্যার নেপথ্যে ছিলেন অভিযুক্ত মনোয়ার হোসেন লেদু ওরফে লেদু হাসান। যা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ ও জবানবন্দিতে ওঠে এসেছে। তারা আদালতকে জানিয়েছে, লেদু হাসানই বাদশাকে হত্যার জন্য মূল হত্যাকারী পারভেজকে অস্ত্র সরবরাহ করেছিল।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে র‌্যাব-২ মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকা থেকে লেদুকে গ্রেফতার করে।

র‌্যাব জানিয়েছে, লেদু শুধু বিএনপি নেতা হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয় তার আগে ২০১০ সালে ঘটে যাওয়া আলোচিত ওহিদুজ্জামান হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেফতার হন। এরপর ২০১২ সাল পর্যন্ত কারাভোগ করেন। পরে ২০২১ সালে ১টি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ র‌্যাব-৪ এর হাতে গ্রেফতার হন। সেই অস্ত্র মামলায় তার ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়।

র‌্যাব আরও জানিয়েছে, প্রতিনিয়ত এলাকাবাসীরা তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, কিশোরগ্যাংদের পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়ে র‌্যাবের কাছে ফোনে অভিযোগ জানিয়ে থাকে। ভুক্তভোগীরা চাইলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারে।

৩৩ মামলার আসামি লেদু হাসান
লেদু হাসানকে গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলার খোঁজ পেয়েছে র‌্যাব। মনোয়ার হোসেন লেদুর নামে ডিএমপির মোহাম্মদপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১০টি, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ২টি, দ্রুত বিচার আইনে ১টি মামলা ও ১টি ওয়ারেন্ট ইস্যু রয়েছে। পাশাপাশি ডিএমপির আদাবর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৮টি, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ৬টি, হত্যা ও হত্যাচেষ্টার ২টি এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ১টি মামলাসহ আরও ১ টি অভিযোগ রয়েছে| এছাড়াও দারুস সালাম থানায় ১টি অস্ত্র মামলা রয়েছে।

এমআইকে/এমআই