Dhaka Mail Logo

জাতীয়

দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণ নিশ্চিতে উন্নয়ন প্রকল্প নিতে হবে: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম

জনগণের জীবনমানের বাস্তব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জনস্বার্থ, জবাবদিহি, দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দৃশ্যমান অবকাঠামো নির্মাণের চেয়ে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ নিশ্চিত করে—এমন প্রকল্পই অগ্রাধিকার পাবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সরকার এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতায় ২০২৬–২৭ অর্থবছরের চলমান এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত নতুন প্রকল্পসমূহ পর্যালোচনা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

সভার শুরুতে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন ২০২৫–২৬ ও ২০২৬–২৭ অর্থবছরের এডিপির সার্বিক চিত্র উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বিন্যাসের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরা হয়।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু দৃশ্যমান অবকাঠামো নয়, মানুষের জীবনমানের ওপর প্রকৃত প্রভাবকে বিবেচনায় নিতে হবে। জনপ্রিয়তার জন্য নয়, মানুষের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণে কার্যকর হবে—এমন প্রকল্পকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। আগামী পাঁচ, ১০ কিংবা ৫০ বছর পর দেশের উন্নয়নের অবস্থান কোথায় দেখতে চাই, সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রকল্প প্রণয়নে আরও সতর্কতা, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি চলমান প্রকল্প সংশোধন, পুনর্বিন্যাস কিংবা সমজাতীয় প্রকল্প একীভূত করে বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থ জনগণের কষ্টার্জিত সম্পদ। তাই প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়ানুবর্তিতা, গুণগত মান, ব্যয়দক্ষতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও আন্তরিকতা, দক্ষতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। এ খাতে টেকসই ও সময়োপযোগী প্রকল্প গ্রহণ এবং কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হবে।

প্রশিক্ষণ ও গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিই টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এমন দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যা আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে সহায়ক হবে। নারী উন্নয়ন ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি এসব উদ্যোগ আরও ব্যাপকভাবে জনগণের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরী, পরিকল্পনা কমিশনের বিভিন্ন বিভাগের সদস্য, দুই বিভাগের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব ও উপসচিবসহ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং অধীনস্থ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ/এআর