জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
স্কুল ড্রেস গায়ে ক্ষুদে এক শিক্ষার্থীর চোখে উপচে পড়া বিস্ময়, আর মুখে ভুবন ভোলানো হাসি। রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর ফাইনাল অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন হাজারো শিশু-কিশোর।
এর মধ্যে একটি ছেলের হাতে যেন সবার মন কেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ছবিটি আপাতদৃষ্টিতে একটি সাধারণ ছবি মনে হলেও, ছোট এই শিশুর মন খোলা হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে স্বজন হারানোর এক গভীর বেদনার গল্প।
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফারের ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবিটির এই কিশোরের নাম তাহসিন। দুই বছর আগে মাইলস্টোন স্কুলে ঘটে যাওয়া সেই মর্মান্তিক যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় যে হারিয়েছে তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ- বড় বোন তাসনিয়াকে।
সেদিনের ঘটনার কথা মনে করলে আজও শিউরে ওঠেন স্বজনরা। ঘটনার সময় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া তাহসিন আর অষ্টম শ্রেণির তাসনিয়া ছিল স্কুলের দুটি আলাদা ভবনে। বিকট শব্দে তাসনিয়ার ভবনে যুদ্ধবিমানটি আছড়ে পড়ার পর চারিদিক ছেয়ে যায় ধোঁয়া ও আগুনে।
বোনের এমন বিপদের কথা শুনে আকুল হয়ে খেলার মাঠ পেরিয়ে ছুটে গিয়েছিল ছোট্ট তাহসিন। অপরিচিত কারও কথা শুনে বোনের চিকিৎসার জন্য নিজের ছোট্ট দুই হাতে স্যালাইন আর পানি জোগাড় করে দাঁড়িয়ে ছিল সে- ভেবেছিল, হয়তো বোনকে বাঁচানো যাবে।
কিন্তু নিয়তি সেই সুযোগ দেয়নি। বোনকে হারিয়ে থমকে যায় তাহসিনের শৈশব।
তাহসিনের সম্পর্কে এমন তথ্য দিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকের ফটো সাংবাদিক জান্নাতুল ফেরদৌস লাকী লিখেছেন, দুর্ঘটনার কিছুদিন পর এক হিলিং সেশনে প্রিয় বোনকে নিয়ে তাহসিন লিখেছিল— ‘Amar kosto onek. Ami amar priyo bonke hariye felechi. She mara geche. Oke ami onek onek miss kori. O amar best friend...’
ওই হিলিং সেশনে অংশ নিয়েছিলেন এই চিত্র সাংবাদিকও।
জানা গেছে, বোনকে হারানোর পর থেকে শান্ত-চুপচাপ তাহসিন খুব একটা প্রাণখুলে হাসে না। তবে মঙ্গলবার আর্মি স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে অন্য এক তাহসিনকে দেখা গেল। প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি এসে আনন্দের আবেগে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে সে। দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনের মুহূর্তটিতে যেন এক নিমেষেই দূর হয়ে যায় তার বুকের ভেতরের সব জমানো কষ্ট।
ক্যামেরায় বন্দি হওয়া তাহসিনের এই মিষ্টি হাসির ছবি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নিমিষেই তা ছুঁয়ে যায় হাজারো মানুষের হৃদয়। অনেকে ফেসবুকে এই ছবি পোস্টও করেছেন।
বিইউ/এএইচ