Dhaka Mail Logo

জাতীয়

কার্বন মার্কেটে ঢুকতে চায় বাংলাদেশ, চূড়ান্ত হচ্ছে রোডম্যাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম

বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক ও কার্যকর কার্বন মার্কেট গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বাংলাদেশ কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্ক’ নিয়ে আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফাহমিদা খানম।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক কার্বন মার্কেট বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তবে এই বাজার পরিচালনায় পরিবেশগত অখণ্ডতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের ন্যায্য সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) বাস্তবায়নে কার্বন মার্কেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো ও অপসারণ কার্যক্রমের সঠিক হিসাব, যাচাই এবং আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করা জরুরি।

সভায় জানানো হয়, প্যারিস চুক্তির আওতায় আর্টিকেল-৬ ডিজাইনেটেড ন্যাশনাল অথরিটি (এ-৬ ডিএনএ) হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং বিশ্বব্যাংকের পার্টনারশিপ ফর মার্কেট ইমপ্লিমেন্টেশন (পিএমআই) কর্মসূচির সহায়তায় ‘বাংলাদেশ কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্ক’-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, দেশে সীমিত পরিসরে বেসরকারিভাবে কার্বন ট্রেডিং শুরু হলেও সরকারিভাবে এখনও তা চালু হয়নি। যত দ্রুত সম্ভব সরকারি পর্যায়ে কার্বন ট্রেডিং শুরু করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।

তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে উপকূলীয় এলাকায় দুই কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ কর্মসূচি থেকে কীভাবে বাংলাদেশ কার্বন ক্রেডিট অর্জন করতে পারে, সে বিষয়েও কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, বাংলাদেশ এখনও আন্তর্জাতিক কার্বন মার্কেটে প্রবেশ করতে পারেনি। দ্রুত এই বাজারে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্টদের কাজ করার আহ্বান জানাই।

সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশ সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে খসড়া ফ্রেমওয়ার্ককে আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করা হবে। এর মাধ্যমে কার্বন ক্রেডিট অনুমোদন, হিসাবরক্ষণ, পর্যবেক্ষণ এবং মুনাফা বণ্টনের জন্য একটি সুস্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে উঠবে।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ধরিত্রী কুমার সরকার ‘বাংলাদেশ কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্ক’-এর খসড়া উপস্থাপন করেন। এতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা খসড়া ফ্রেমওয়ার্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন। এসব মতামত পর্যালোচনা করে ‘বাংলাদেশ কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্ক’ চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এমএইচ/এফএ