জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কেরানীগঞ্জে টার্মিনাল স্থানান্তরের অংশ হিসেবে কয়েক দিন ধরেই রাজধানীর ফুলবাড়িয়া আন্তজেলা বাস টার্মিনালে দূরপাল্লার কোনো বাস ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে ফুলবাড়িয়া অংশের সড়কে শৃঙ্খলা ফিরলেও গুলিস্তান ও হানিফ ফ্লাইওভারসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক যানজট দেখা দিয়েছে।
ফুলবাড়িয়া টার্মিনালে দূরপাল্লার বাস আসতে না পারায় সায়েদাবাদ ও দোলাইপাড় এলাকাতেও এর প্রভাব পড়েছে। ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
সড়কের যানজট নিরসন ও সুশৃঙ্খল গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে টার্মিনাল স্থানান্তরের অংশ হিসেবে গত শুক্রবার থেকে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালে কোনো দূরপাল্লার বাস ঢুকছে না।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, ফুলবাড়িয়া-ঢাকা মেডিকেল রুটের যানজটের চিত্র পাল্টে গেছে। এত দিন এই রুটে দক্ষিণাঞ্চলের দূরপাল্লার বাসের কারণে যানজট লেগেই থাকত। এখন রুটটি প্রায় ফাঁকা।

তবে গুলিস্তানের অন্যান্য অংশে যানজটের পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে হানিফ ফ্লাইওভারে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। যানবাহনের চাপ সামলাতে ফ্লাইওভারে দায়িত্বরত কর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন।
ফ্লাইওভারের দায়িত্বরত কর্মীরা বলছেন, এত দিন দূরপাল্লার বাসগুলো ফ্লাইওভার থেকে গুলিস্তানে না নেমে ঢাকা মেডিকেল হয়ে ফুলবাড়িয়া টার্মিনালে পৌঁছাত। কিন্তু এখন এসব বাস গুলিস্তানেই নেমে যাচ্ছে। এ কারণে বাড়তি চাপ পড়েছে। আবার অনেক বাস ফ্লাইওভারের গোড়ায় যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে। ফলে যানজট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
ফুলবাড়িয়া টার্মিনালের বিভিন্ন বাস কোম্পানির কাউন্টারে কথা বলে জানা যায়, কিছু কোম্পানি সায়েদাবাদ ও দোলাইপাড় এলাকা থেকে টিকিট বিক্রি করছে। তবে যাত্রীরা তথ্য জানতে এলে জানাতে তারা ফুলবাড়িয়ার কাউন্টারও খোলা রেখেছেন।
আবার অনেক কোম্পানি ফুলবাড়িয়া কাউন্টার থেকেই টিকিট বিক্রি করছে। নির্দিষ্টসংখ্যক যাত্রী হলে তাদের একসঙ্গে গুলিস্তান ফ্লাইওভারের গোড়ায় অপেক্ষমাণ বাসে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
ফুলবাড়িয়া টার্মিনালে নড়াইল এক্সপ্রেসের কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, সেখান থেকে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। কাঙ্ক্ষিতসংখ্যক টিকিট বিক্রি হলে একজন কর্মী যাত্রীদের নিয়ে বাসের উদ্দেশে রওনা হন। পরে তাঁদের গুলিস্তান হানিফ ফ্লাইওভারের ওপর অপেক্ষমাণ বাসে তুলে দেওয়া হয়।
কথা হলে নড়াইল এক্সপ্রেসের এক কর্মী বলেন, ওদিকে (ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল) যেতে দেওয়া হয় না। তাই বাধ্য হয়ে এখান থেকেই যাত্রী তুলতে হচ্ছে।
নড়াইল এক্সপ্রেসের যাত্রী আবেদ আলী বলেন, একটা বিড়ম্বনায় পড়েছি। যানজটের মধ্যে মালপত্র নিয়ে এত দূরে এসে বাসে উঠতে হচ্ছে।
এদিকে খুলনা ও বরিশাল রুটের ওয়েলকাল এক্সপ্রেসকেও ফ্লাইওভারের গোড়ায় যাত্রী তুলতে দেখা গেছে।
আজিজুল রহমান নামের এক যাত্রী বলেন, কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে বাস ধরতে আমাদের এখানে আসতে হচ্ছে। এতে নতুন ভোগান্তিতে পড়েছি।
ওয়েলকাল এক্সপ্রেসের কাউন্টার মাস্টার রিয়াজ বলেন, বিকল্প স্থানে কাউন্টার চালু বা যাত্রী ওঠানোর জন্য আমরা সময় পাইনি। তাই এখানেই কাউন্টার খোলা রেখেছি। যাত্রীদের বাসে তুলে দিতে লোক পাঠানো হচ্ছে।

হানিফ এন্টারপ্রাইজের ফুলবাড়িয়া টার্মিনালের কাউন্টার মাস্টার বাচ্চু বলেন, তারা সায়েদাবাদ জনপদের মোড় ও দোলাইপাড় থেকে টিকিট বিক্রি করছেন। যাত্রীদেরও সেখান থেকেই ওঠানো হচ্ছে।
টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের কাউন্টার মাস্টার রানা বলেন, আমরা এখান থেকে টিকিট বিক্রি করছি না। সায়েদাবাদ ও দোলাইপাড় থেকেই আমাদের বাসে যাত্রী ওঠানো হচ্ছে।
এদিকে গুলিস্তানের পাশাপাশি সায়েদাবাদ ও দোলাইপাড় এলাকাতেও যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার কারণে সড়কে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় যাত্রী তুলতে বাস দাঁড় করিয়ে রাখায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জে টার্মিনাল স্থানান্তরের সরকারি সিদ্ধান্তে তাঁদের দ্বিমত নেই। তবে তাঁদের মতে, রাজধানীর অন্য টার্মিনালগুলো যেহেতু এখনই সরানো হচ্ছে না, তাই ফুলবাড়িয়া টার্মিনালের ক্ষেত্রেও কিছুটা সময় দেওয়া উচিত।
এএম/এআর