Dhaka Mail Logo

জাতীয় / অর্থনীতি

‘যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শতাংশ শুল্কে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা কমবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:১০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নতুন ১০ শতাংশ শুল্কে বাংলাদেশের রফতানি প্রতিযোগিতা কমবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।তিনি বলেন, এ শুল্ক বাংলাদেশের জন্য নতুন কোনো অতিরিক্ত বোঝা নয়। বরং প্রতিযোগী অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেও বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের ওপর একই হারে শুল্ক কার্যকর ছিল। ফলে মোট শুল্কের হারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ কারণে নতুন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে না। বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর অনেকগুলোর ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে না, বরং তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকবে।

উপদেষ্টা জানান, সরকার দেশের উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সম্প্রতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী অংশ নিয়ে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে ভবিষ্যতের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমানে বিশ্বের অর্থনীতি ও প্রযুক্তির অন্যতম ভিত্তি সেমিকন্ডাক্টর। তাই বাংলাদেশও এই খাতে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে চায়। একই সঙ্গে সরকার সৃজনশীল অর্থনীতিকে (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) গুরুত্ব দিচ্ছে। যাতে সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ড শুধু শখের বিষয় না থেকে আয় ও কর্মসংস্থানের উৎসে পরিণত হয়।

তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনা কমিশনের বৈঠকে এক হাজার ৪৪১ কোটি টাকার আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে সড়ক ও সেতু নির্মাণ, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খননের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ রয়েছে। সরকার স্থলভাগে আরও বেশি গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছে।

শিল্পখাতে বিনিয়োগ ও রফতানি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, অতীতের আর্থিক অনিয়ম, অর্থ পাচার, কোভিড-পরবর্তী বৈশ্বিক সংকট এবং জ্বালানি নিরাপত্তার দুর্বলতার প্রভাব এখনো দেশের অর্থনীতিতে রয়েছে। বিশেষ করে গ্যাস সংকট শিল্পায়নের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতেই পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এ কারণে আপাতত নতুন শিল্পে গ্যাস সংযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সরকার স্থলভাগ ও সমুদ্রে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আনার উদ্যোগ নিয়েছে।

ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে সম্মেলনে যোগ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুধু টুথপেস্ট নয়, বিভিন্ন উৎস থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিবেশ, পানি ও খাদ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলা উচিত নয়। অভিযোগ থাকলে সেটি আইনগত প্রক্রিয়ায় তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং জনগণকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।


এএইচ/এফএ