মো. মেহেদী হাসান হাসিব
২৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়েছে। পাশাপাশি সাতক্ষীরা-৪ আসনও শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কিংবা কোনো সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছে ইসি।
ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানান, অক্টোবরকে লক্ষ্য ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ফলে পদটি শূন্য হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। এ ছাড়া নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
তারা জানান, আইন অনুযায়ী স্পিকার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠালে কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এতে কিছুটা সময় লাগলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে। তবে আপাতত অক্টোবরকে সামনে রেখেই প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ঢাকা মেইলকে বলেন, এ বিষয়ে কমিশনে আলোচনা হয়েছে। আইন অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হয়। সে জন্য ইসি সচিবালয় সংসদ সচিবালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্পিকারের সাক্ষাতের সময় চাইবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বা কোনো সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনের কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে যাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোনো বিষয় নেই। এ নির্বাচনের জন্য কমিশনের প্রস্তুতি রয়েছে। আর কোনো সংসদীয় আসন শূন্য হলে সেটির উপনির্বাচনও একই সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব। এর জন্য আলাদা কোনো প্রস্তুতির প্রয়োজন হবে না। ফলে এসব নির্বাচন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেছেন, চলতি বছরের শেষ দিকে বা আগামী বছরের শুরু থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। অন্যদিকে ইসি অক্টোবর থেকে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির কথা বলছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, কমিশন অক্টোবরকে লক্ষ্য ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজনে ভোট পিছিয়েও দেওয়া যেতে পারে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন ও বিধি সংশোধনের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগে কবে পাঠানো হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। তবে চলতি সপ্তাহেই তা পাঠানো হবে।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে জাতীয় সংসদ থেকে কোনো চিঠি এসেছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার জানা মতে এখনো কোনো চিঠি আসেনি।
দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সিইসি স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পরে সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের তালিকা ইসি সচিবালয়ে পাঠানো হবে। সেই তালিকার ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে তফসিল ঘোষণা করা হবে।
অন্যদিকে, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা যাচাই করে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকার ও সিইসিকে চিঠি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
এ বিষয়ে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিতর্ক দেখা দিলে বিষয়টি শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। এ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
এমএইচএইচ/এআর