Dhaka Mail Logo

জাতীয় / কৃষি ও পরিবেশ

কংক্রিটের দৌড়ে সবুজ ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ!

আব্দুল হাকিম

২৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৮ এএম

  • আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা সরকারের
  • বনভূমি রক্ষা ছাড়া বৃক্ষরোপণের সুফল টেকসই হবে না, বলছেন বিশেষজ্ঞরা
  • ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই লাগানো হবে ৪ কোটির বেশি চারা
  • ভুল প্রজাতির গাছ লাগালে বেঁচে থাকার হার কমে যায়
  • বন হারালে অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে
  • উন্নয়ন প্রকল্পে গাছ কাটার তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতার দাবি

দেশজুড়ে সড়ক, সেতু, রেললাইন, আবাসন, শিল্পাঞ্চল ও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও নগরায়নের এ ধারা দেশের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হলেও এর বড় মূল্য দিচ্ছে পরিবেশ। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও কাটা পড়ছে শতবর্ষী গাছ, সংকুচিত হচ্ছে বনভূমি, হারিয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক আবাসস্থল। এই বাস্তবতায় আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশন’ শুরু করেছে সরকার। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যেভাবে একদিকে নতুন চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে একই গতিতে যদি বনভূমি ও পুরোনো গাছ হারিয়ে যেতে থাকে, তাহলে এই কর্মসূচি কতটা কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে?

পরিবেশবিদরা বলছেন, একটি পূর্ণবয়স্ক বন কয়েক দশক ধরে যে পরিবেশগত সেবা দেয়, নতুন লাগানো একটি চারা তা দিতে পারে না। ফলে শুধু গাছ লাগানোর সংখ্যার হিসাব দিয়ে সবুজায়নের সাফল্য বিচার করলে প্রকৃত চিত্র আড়াল হয়ে যাবে। তাদের মতে, বিদ্যমান বনভূমি রক্ষা, উন্নয়ন প্রকল্পে গাছ কাটার বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং লাগানো গাছের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার ওপরই নির্ভর করবে এই কর্মসূচির সাফল্য।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা হবে। উপকূল, চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা, সরকারি প্রতিষ্ঠানের খালি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, সড়ক ও রেলপথের দুই পাশ, নদী ও খালের তীর এবং সামাজিক বনায়নের আওতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের মাধ্যমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। সরকার আশা করছে, এতে দেশের সবুজায়ন বাড়বে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

শুধু ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই ২৫ হাজার ৯৬০ হেক্টর ব্লক বাগানে চার কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া তিন হাজার ৭২৭ কিলোমিটার স্ট্রিপ বাগানে ৩৭ লাখ ২৭ হাজার, চার হাজার হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগানে এক কোটি ৭৭ লাখ ৭৬ হাজার এবং বসতবাড়ি বনায়নে ৫৬ লাখ চারা লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের একটি অংশকে কার্বন বাণিজ্যের আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

25

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিকল্পনা যত বড়ই হোক, বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ আরও বড়। কারণ বাংলাদেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নতুন নয়। স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় প্রতি বছরই বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে লাখ লাখ গাছ লাগানো হয়েছে। কিন্তু এসব গাছের কত শতাংশ এখনো টিকে আছে, তার নির্ভরযোগ্য কোনো জাতীয় হিসাব নেই। বিভিন্ন বন জরিপ ও গবেষণায় বরং দেখা গেছে, নতুন গাছ লাগানোর পরও দেশের বন আচ্ছাদন কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়েনি।

বন অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে দেশে বন আচ্ছাদনের হার ছিল ১২ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এক দশক পরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ১১ শতাংশে। একই সময়ে দেশের মোট বনভূমিও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে বন উজাড়ের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। শুধু রাঙামাটিতেই গত এক দশকে প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর বনভূমি হারিয়ে গেছে। বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলের বাইরে মধুপুরের শালবন, গাজীপুরের বনাঞ্চল, উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী এবং গ্রামীণ সড়কের সারিবদ্ধ গাছও ক্রমেই কমে যাচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্প, অবৈধ দখল, পাহাড় কাটা, কৃষিজমি সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন এবং নগর বিস্তারের কারণে প্রাকৃতিক বনভূমি প্রতিনিয়ত সংকুচিত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

বন অধিদফতরের পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মসূচিতে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে শিলকড়ই, জাম, মহুয়া, বহেরা, অর্জুন, নিম, হরীতকী, কাঁঠাল, চালতা, কদমসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতি। উপকূলীয় অঞ্চলে ঝাউ এবং সুন্দরবন এলাকায় সুন্দরী, গেওয়া, গরান ও বাইন রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিপন্ন উদ্ভিদ সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিবেশবিদদের মতে, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, বিদ্যালয় এবং জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে বিপন্ন প্রজাতির জন্য আলাদা সংরক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, বনভূমি কমে যাওয়া মানে শুধু গাছ হারিয়ে যাওয়া নয়। এর সঙ্গে হারিয়ে যায় অসংখ্য প্রাণীর আবাসস্থল, ক্ষতিগ্রস্ত হয় জীববৈচিত্র্য, কমে যায় কার্বন শোষণের ক্ষমতা, বেড়ে যায় তাপমাত্রা এবং পরিবর্তিত হয় স্থানীয় জলবায়ু। বড় শহরগুলোতে এখন যে তাপদ্বীপ প্রভাব দেখা যাচ্ছে, তার অন্যতম কারণ নগর এলাকায় গাছের সংখ্যা দ্রুত কমে যাওয়া।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে গাছ কাটার ঘটনাও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। কোথাও নতুন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ, কোথাও রেললাইন সম্প্রসারণ, কোথাও আবার সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য হাজার হাজার গাছ কাটা হয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০২৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ১৩ লাখ গাছ কাটা হয়েছে। যদিও প্রতিটি প্রকল্পে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের বিধান রয়েছে, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই সেই মূল্যায়নের সুপারিশ পুরোপুরি অনুসরণ করা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই বাস্তবতায় ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু শুধু নতুন চারা লাগিয়ে পুরোনো বন হারানোর ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয়। একটি শতবর্ষী গাছ যে পরিমাণ কার্বন শোষণ করে, যে পরিমাণ ছায়া দেয় এবং যে জীববৈচিত্র্য ধারণ করে, নতুন লাগানো একটি চারা তা করতে কয়েক দশক সময় নেয়। ফলে একদিকে যদি পুরোনো বন উজাড় চলতে থাকে এবং অন্যদিকে নতুন চারা লাগানো হয়, তাহলে পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে গাছ কাটার ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার ভারসাম্য এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। রাজশাহীতে একাধিক প্রকল্পে দুই হাজারের বেশি গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্যই প্রায় এক হাজার ৮৫৩টি গাছ কাটার পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে নতুন পাইপলাইন স্থাপন, সড়ক উন্নয়ন এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণেও শত শত গাছ অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলেও একই চিত্র দেখা গেছে। মেডিকেল কলেজ, রেলওয়ে এবং বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে বহু পুরোনো গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। আনোয়ারায় খাল পুনঃখননের সময় পাঁচ হাজারের বেশি গাছ কাটা হয়েছে। প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়িত হলে আরও কয়েক হাজার গাছ কাটার আশঙ্কা রয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণে বহু পুরোনো গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও শতাধিক পুরোনো গাছ অপসারণ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে সড়কের পাশের গাছ কাটা, খাসজমির গাছ দখল কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চল। রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে বনভূমি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে অবৈধ দখল, পাহাড় কাটা, জুম চাষের সম্প্রসারণ এবং কাঠ পাচার। অন্যদিকে কক্সবাজার অঞ্চলে রেললাইন নির্মাণের সময় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বনভূমি শুধু গাছের সমষ্টি নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীববৈচিত্র্যের আবাস। একটি বন ধ্বংস হলে সেখানে বসবাসকারী অসংখ্য প্রাণী, পাখি, কীটপতঙ্গ ও উদ্ভিদের জীবনচক্রও ভেঙে পড়ে।

7

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২৫ কোটি নতুন চারা অবশ্যই আশাব্যঞ্জক উদ্যোগ। কিন্তু একই সময়ে যদি পুরোনো বনভূমি হারাতে থাকে, তাহলে নতুন চারার সংখ্যা বাড়লেও প্রকৃত সবুজায়ন নিশ্চিত হবে না। একটি পূর্ণবয়স্ক বন তৈরি হতে যেখানে কয়েক দশক সময় লাগে, সেখানে কয়েক ঘণ্টায় কেটে ফেলা যায় হাজার হাজার গাছ। তাই কংক্রিটের বিস্তারের এই সময়ে শুধু নতুন গাছ লাগানো নয়, বিদ্যমান বন ও পুরোনো গাছ রক্ষাই হতে পারে বাংলাদেশের পরিবেশ সুরক্ষার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেই কেবল ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশন’ কাগজের পরিকল্পনা থেকে বাস্তবের সবুজ বিপ্লবে রূপ নিতে পারে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, বাংলাদেশে বৃক্ষরোপণের সবচেয়ে বড় সমস্যা রোপণের পর পরিচর্যা। অধিকাংশ কর্মসূচিতে চারা লাগানো হলেও কয়েক মাস পর সেগুলোর আর খোঁজ থাকে না। ফলে উল্লেখযোগ্য অংশ নষ্ট হয়ে যায়। সংখ্যার প্রতিযোগিতার পরিবর্তে কোথায় কোন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে, কীভাবে তা সংরক্ষণ করা হবে এবং কত বছর ধরে পরিচর্যা করা হবে, সে বিষয়গুলোকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রজাতির গাছকে অগ্রাধিকার দিলে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, বন উজাড়ের সবচেয়ে বড় কারণ এখন শুধু অবৈধ গাছ কাটা নয়, বরং পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম। সড়ক, রেললাইন, সেতু, শিল্পাঞ্চল, আবাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিপুলসংখ্যক গাছ কাটা হচ্ছে। উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কারও দ্বিমত না থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় পরিবেশগত ক্ষতি কমিয়ে আনার বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

কৃষিবিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ মৃত্যুঞ্জয় রায় বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে যত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হয়েছে, সেগুলোর কত শতাংশ গাছ এখনো বেঁচে আছে, সেটিই আগে মূল্যায়ন করা উচিত। দেশে যদি সত্যিই লাগানো গাছগুলো টিকে থাকত, তাহলে বন আচ্ছাদনের হার কমার কথা নয়। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, নতুন গাছ লাগানো হচ্ছে, আবার অন্যদিকে বড় বড় গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। ফলে সামগ্রিকভাবে দেশের সবুজায়ন বাড়ছে না।

তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণকে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হিসেবে দেখলে হবে না। এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

সরকার বলছে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার শুধু চারা রোপণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না কর্মসূচি। প্রতিটি গাছের অবস্থান, বৃদ্ধি এবং পরিচর্যা পর্যবেক্ষণের জন্য ‘মাই ট্রি মনিটরিং’ নামে একটি ডিজিটাল অ্যাপ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোথায় কোন গাছ লাগানো হয়েছে, সেটির অবস্থান, বেঁচে থাকার হার এবং পরিচর্যার তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক বনায়নের আওতায় স্থানীয় জনগণকে যুক্ত করে গাছের পরিচর্যার বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বন অধিদফতরের বন সংরক্ষক (অর্থ ও প্রশাসন) আর এস এম মুনিরুল ইসলাম বলেন, আগামী পাঁচ বছরে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা হবে। শুধু গাছ লাগানো নয়, সেগুলো বড় করে তোলা এবং বেঁচে থাকার হার নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এজন্য ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হবে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, সরকারের ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশন’ শুধু বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নয়, এটি পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা। এর আওতায় উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ বাগান সম্প্রসারণ, সামাজিক বনায়ন, নদী ও খাল পুনরুদ্ধার, প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ শিক্ষা বিস্তারের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

এএইচ/এএস