জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আস্তানা তৈরি করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন রাজীব শাহ নামে এক ভবঘুরে। আস্তানাটিতে একটি ভাসমান মসজিদও তৈরি করেন তিনি। এ নিয়ে বিতর্কের জেরে অবৈধ আস্তানাটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও গণপূর্ত অধিদফতরের যৌথ অভিযানে স্থাপনাটি অপসারণ করা হয়।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর ও নাট্যশালার মধ্যবর্তী স্থানে প্রায় ৯ মাস আগে আস্তানা তৈরি করে বসবাস শুরু করেন ভবঘুরে রাজীব শাহ। পরে তিনি ওই স্থানে ধান ও বিভিন্ন ধরনের ফুলগাছ রোপণ করেন। পাশাপাশি নিজের থাকার জন্য একটি ছোট অস্থায়ী ঘরও নির্মাণ করেন।
সম্প্রতি রাজিব শাহ তার আস্তানা অস্থায়ী মসজিদে রূপ দেন। সেখানে ইট দিয়ে মেঝে তৈরি করে কার্পেট ও জায়নামাজ বিছানো হয়। ওপরে ত্রিপল টানিয়ে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া অজুর জন্য পানির ট্যাংক এবং একটি অস্থায়ী ওয়াশরুমও নির্মাণ করা হয়।
ভবঘুরে রাজীব শাহের এসব কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেয়।
তারই মাঝে আজ ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় রাজীব শাহের আস্তানাটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
উচ্ছেদ অভিযানের সময় কর্তৃপক্ষ সেখান থেকে কয়েকটি পবিত্র কোরআন শরিফ, রেহেল, কোরআনের বাংলা অনুবাদের কপি এবং কয়েকটি ট্রাংক উদ্ধার করে।
ডিএসসিসি জানায়, অভিযানকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরের অন্যান্য অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ করে উদ্যান এলাকা সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা হয়েছে।
অভিযান চালানোর সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যবৃন্দ, গণপূর্ত অধিদফতরের ঢাকা নগর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এএম/এএইচ