Dhaka Mail Logo

জাতীয়

মান সনদ ছাড়া পণ্য উৎপাদন, ৭ প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম

গুণগত মান সনদ ও মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন সনদ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার অভিযোগে রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে পৃথক তিনটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। অভিযানে পোল্ট্রি ফিড, ফিশ ফিড, ব্যাটারি, হ্যান্ডওয়াশ, টয়লেট ক্লিনার, মিষ্টি, বিস্কুট, সেমাই ও দই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

রোববার (২৬ জুলাই) বিএসটিআই এই সংক্রান্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পৃথক তিনটি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, রাজধানীর বসিলা ও হাজারীবাগ এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিএসটিআই জানায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে এসিআই গোদরেজ এগ্রোভেট প্রাইভেট লিমিটেডকে পোল্ট্রি ফিড ও ফিশ ফিডের অনুকূলে বিএসটিআইয়ের গুণগত মান সনদ এবং মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন সনদ গ্রহণ ছাড়াই উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ করার দায়ে শাস্তি দেওয়া হয়। বিএসটিআই আইন, ২০১৮ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা এবং ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮ অনুযায়ী আরও ২ লাখ টাকা, অর্থাৎ মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

একই অভিযানে একই ধরনের অপরাধে আফতাব ফিড প্রোডাক্টস লিমিটেডকেও বিএসটিআই আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ২ লাখ টাকা এবং ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮ অনুযায়ী আরও ২ লাখ টাকা, সর্বমোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়া রূপগঞ্জের তারাবো এলাকায় অবস্থিত জিউজো ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডকে বিএসটিআইয়ের গুণগত মান সনদ ও মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন সনদ ছাড়াই লেড অ্যাসিড স্টার্টার ব্যাটারি উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ করার দায়ে বিএসটিআই আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ১ লাখ টাকা এবং ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮ অনুযায়ী আরও ১ লাখ টাকা, মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। শুধু নারায়ণগঞ্জে পরিচালিত এই মোবাইল কোর্টে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে রাজধানীর বসিলা এলাকায় পরিচালিত আরেকটি মোবাইল কোর্টে দেখা যায়, আমান কনজ্যুমার অ্যান্ড টয়লেট্রিজ এবং স্ট্যান্ডার্ড কনজ্যুমার অ্যান্ড টয়লেট্রিজ নামে দুটি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের পণ্যের নামের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে ‘লাইজল’, ‘হারপিক’ ও ‘ভিম’ নামে হ্যান্ডওয়াশ ও তরল টয়লেট ক্লিনার উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল। ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করার এই ধরনের কার্যক্রমের দায়ে প্রতিষ্ঠান দুটিকে মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় পরিচালিত পৃথক আরেকটি মোবাইল কোর্টে বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক মান সনদ ছাড়াই মিষ্টি, বিস্কুট ও লাচ্ছা সেমাই বিক্রি করার দায়ে ‘মিঠাই’ নামের প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই এলাকায় মান সনদ ছাড়াই মিষ্টি ও দই উৎপাদন এবং বাজারজাত করার দায়ে ‘অপূর্ব আনন্দ জল খাবার’ নামের প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বিএসটিআই জানায়, তিনটি মোবাইল কোর্টে মোট সাতটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে সর্বমোট ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন বিএসটিআইয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাবেকুন নাহার। রাজধানীর বসিলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন্নেসা খানম এবং হাজারীবাগ এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুল ইসলাম।

অভিযানগুলোতে বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক কে এম হানিফ, সহকারী পরিচালক (মেট্রোলজি) মো. রাকিবুল আলম, ফিল্ড অফিসার মো. রাশেদ আল মামুন, বোরহান উদ্দিন, সুমাইয়া আফরোজ লিজাসহ সংস্থাটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএসটিআই জানিয়েছে, ভোক্তাদের নিরাপদ, মানসম্মত ও সঠিকভাবে মোড়কজাত পণ্য নিশ্চিত করতে সারাদেশে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট ও বাজার তদারকি কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। মান সনদ ছাড়া কোনো পণ্য উৎপাদন, বিক্রয় বা বাজারজাত করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

এএইচ/এফএ