Dhaka Mail Logo

জাতীয়

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে চায় সরকার: তিতুমীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল তিতুমীর। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে উৎপাদনমুখী শিল্পায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কবিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির ভিত্তিতে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আগামী দিনে আরও গভীর ও ফলপ্রসূ হবে। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং ‘নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন কমিউনিটি’ গঠনের ঘোষণা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তববাদী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী কূটনীতি, দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা এবং সব অংশীদারের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক জোরদারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অর্থ উপদেষ্টা জানান, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা খাতে প্রস্তাবিত ‘২+২ সংলাপ’ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম কৌশলগত সংলাপ দ্রুত আয়োজনের বিষয়ে বাংলাদেশ আশাবাদী।

রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অর্থনৈতিক সংকটের সময় জাতীয় স্বার্থভিত্তিক বাস্তববাদী অর্থনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছিলেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দারিদ্র্য হ্রাস ও অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়। বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, উৎপাদন শিল্প, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পপার্কে চীনা বিনিয়োগকে বাংলাদেশ বিশেষভাবে স্বাগত জানায়। পাশাপাশি মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যোগাযোগ বৃদ্ধি করে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক লজিস্টিক হাবে পরিণত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশ কোনো একক অংশীদারত্বে বিশ্বাস করে না। বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক সহযোগিতার মাধ্যমে পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব জোরদার করতে চায়। জাতীয় স্বার্থ, শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক আধুনিকায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ভিত্তিতেই বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আগামী দিনে আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে।

সেমিনারে ঢাকায় চীনা দূতাবাসের সংস্কৃতি বিষয়ক কাউন্সেলর লি শাও ফেং বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা কোনো রাজনৈতিক শর্ত বা ভূরাজনৈতিক স্বার্থে নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং উভয়ের লাভের নীতিতে পরিচালিত হয়।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, বিনিয়োগ, অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক সংযোগের পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

এএইচ/এএস